মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আল্লামা বিজনুরি: ছিলেন দেওবন্দি চেতনার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আবুল ফাতাহ কাসেমী : আবেগে আনন্দে মথিত অবাক! দু’হাজার চৌদ্দের কোন এক সকালে। ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দের হাদীসের মসনদে প্রথম সাক্ষাৎ পেলাম  ক্ষণজন্মা মনীষী প্রিয় শিক্ষক আল্লামা রিয়াসাত আলী বিজনুরী রহ. এর। এরপর থেকে থেকে অনেক স্বৃতি।

হুজুর দেওবন্দে হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাব সুনানে তিরমিযির ১ম খণ্ড পড়াতেন। শিক্ষাসচিবও ছিলেন দীর্ঘ দিন। তিনি বিশিষ্ট আরবী সাহিত্যিক মাওলানা রহমাতুল্লাহ কিরানভী রহ. এর একান্ত শিষ্যও বটে। তাছাড়া ভারতের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সহসভাপতি ছিলেন। ছিলেন দেওবন্দের মুশিরে মুহতামিমও। বিশেষত ফখরুল মুহাদ্দিসিন আল্লামা ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী-এর বুখারী ক্লাসের আলোচনা সংকলন ‘ইযাহুল বুখারী’ তার ঐতিহাসিক র্কীতি। এতবড় একজন আলিমের ছাত্র হতে কার না গর্ব হয়।

জীবনে প্রথম কিভাবে নাম শুনেছিলাম তা মনে নেই। তবে ‘ইয়েহ ইলমে হুনারকা গেহওয়ারা’ এমন চয়িত শব্দের সানিন্দ উচ্চারণ কওমিয়ান কেউ শুনে নি, তা ভাবার উর্ধ্বে।

আমাদের চেতনার পিদিম দেওবন্দের প্রবাদপুরুষ আর নেই এমন খবর অপ্রত্যাশিত। দারুল উলুম দেওবন্দ তার সু সময়ে যে ক’জন প্রবাদতুল্য আলিমকে নিয়ে গর্ব করে থাকে হযরত বিজনুরী তাদের একজন।

তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। শ্বেতশুভ্র বসন। মাদানী দু’পাল্লা টুপি। হঠাৎ দেখলে মনে হবে আলোর ঝটকা প্রভা ছড়াচ্ছে। খর্বকায় তবে ততটা নয়। হেটে চলার দৃশ্য দেখলে যে কেউ বিনয় প্রভার সাক্ষ্য দিবেন। আমাদের সময়ে হুজুর দরস ছাড়া কোন প্রোগ্রামে যেতেন না। বাসা টু মসজিদ এ ছিল নিত্য দিনের রুটিন।

২০১৪ সালে ঐতিহাসিক রেশমি রুমাল আন্দোলনের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে হুজুর শান্তির পক্ষে ইসলামের ভূমিকার উপর কী নোট পাঠ করেন। তখন দেওবন্দের ইদগাহে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বিনয়ির বেশে হুজুরকে দরসের বাহিরে দেখেছি। হুজুরের শারীরিক অসুস্থতা ছাড়া কোন ক্লাস মিস হয়েছে বলে মনে পড়ে না।

আমি কয়েক দিন সাহস করে একা একা হুজুরের বাসায় গিয়েছি সুহবতের জন্য। সাধারণত বিকালটায় হুজুর সময় দেন। সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে চা আপ্যায়ণ। আলেমদের পারষ্পরিক গিবত চর্চা নিয়ে হুজুরকে আক্ষেপ করে একদিন অনেক কথা বললাম। হুজুর আমায় সোনার হরফে লেখা কিছু কথা বললেন। যা আজও কানে গুঞ্জরিত হচ্ছে থেকে থেকে।

দেখ, কারো সমালোচনা করা উচà¦