|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||
প্রবাসজীবন অনেকের কাছে স্বপ্নপূরণের পথ। আর সেই স্বপ্নের মূল্য যদি হয় একটি ভেঙে যাওয়া সংসার, নিঃসঙ্গ স্ত্রী কিংবা বিপথগামী পরিবার—তাহলে সেই হিসাব নতুন করে ভাবার সময় কি আসেনি?
বিয়ে শুধু একজোড়া নারী-পুরুষের মধ্যে সামাজিক বা ধর্মীয় চুক্তি নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সঙ্গ এবং পারস্পরিক নির্ভরতার বন্ধন। অথচ আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত প্রবণতা হলো— প্রবাস থেকে কয়েক মাসের ছুটিতে এসে বিয়ে করেই বিদেশে চলে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে নববধূকে রেখে বছরের পর বছর প্রবাসে কাটিয়ে দেন স্বামীরা। উদ্দেশ্য থাকে অর্থনৈতিক উন্নতি। কিন্তু এর আড়ালে যে মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষয় তৈরি হয়, তা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
একজন যুবতী স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গ চায়। ভালোবাসা ও মানসিক উপস্থিতি চায়। অর্থ তার প্রয়োজন, কিন্তু অর্থ কখনো স্বামীর অনুপস্থিতি পূরণ করতে পারে না। দীর্ঘদিন একাকীত্ব, মানসিক শূন্যতা এবং সম্পর্কের দূরত্ব অনেক সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। অনেক সময় সন্দেহ, অবিশ্বাস, মানসিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা অনৈতিক সম্পর্কের মতো সমস্যাও তৈরি হয়। এজন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ- যুবতী স্ত্রী রেখে বিদেশ যাবেন না। পারলে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যান। সাথে নিতে না পারলে দেশেই তার সাথে থাকুন। কষ্ট হলেও স্ত্রীকে পাশে রাখুন। কম খেয়ে হলেও স্ত্রীর গুরুত্ব বুঝুন।
অনেকেই বলেন, দেশে কাজ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কম আয় হলেও পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে বেশি শান্তির হতে পারে। ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ, দিনমজুরি বা অন্য কোনো হালাল পেশা—যাই হোক না কেনো, পরিবারের পাশে থাকার মূল্য অনেক বড়ো। যে টাকা খরচ করে বিদেশে যাবেন, পারলে সে টাকা দিয়ে দেশেই কিছু একটা করুন। স্ত্রীর কাছে থাকুন।
তাও যদি যেতেই হয় বিয়ে না করে যান। ভালোবাসার মর্যাদা বুঝুন।
অনেকে অর্থনীতির কথা বলেন। তাদেরকে বলবো, ভাই! অর্থনীতির বয়ান দিয়েন না। নিজের সংসার আগে বাঁচান। বিবাহের পর স্বামীর বিন্দু পরিমাণ অবহেলার কারণে কোনো অন্যায় হলে, সেটার দায় স্বামীকেও বহন করতে হবে।
অনেক ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টদের কাছ থেকে শুনেছি, ৭০% প্রবাসীর স্ত্রীরা গোপনে প্রটেকশন সামগ্রী কিনে থাকে। একবার ভাবুন তো, এটা দিয়ে তারা কী করে? প্রবাসী ভাইয়েরা মনে রাখবেন-আপনার স্ত্রী যদি ব্যভিচারে জড়িয়ে যায়, সে কি আপনাকে বলে জড়াবে? না, তা অবশ্যই না। তাহলে আপনি বিদেশ থেকে জানবেন কীভাবে?
শরীরের ক্ষুধা কখনো টাকাপয়সা দিয়ে মিটানো যায় না। দেশে প্রচুর ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে। কিন্তু সেই হারে কি পরিবর্তন হচ্ছে?
ঘরে ঘরে আজ পরকীয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। মনে হচ্ছে কেউ রিলেশনে না থাকাটা আজাকাল অপরাধ। অর্থাৎ একটা ছেলের একটা গার্লফ্রেন্ড থাকবে না-এ হতে পারে না। সে রিজন বোঝে না।আনস্মার্ট। আফসোস! এই হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা।
তাই প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার ভাবুন—বিদেশে যাওয়ার পর কি সত্যিই আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ? নাকি আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আপনার সংসারটাই ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে?
মনে রাখবেন, অর্থ হারালে তা ফিরে পাওয়া যায়; কিন্তু ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক ও হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন। তাই বলবো— ‘প্লিজ বউদের বাঁচান।’ তাছাড়া ‘বউ রেখে বিদেশ নয়’, অন্তত এই বিষয়টি নতুন করে ভাবার দাবি রাখে।
লেখক: অনুবাদক ও শিক্ষক
আইও