শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ।। ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৩ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :

সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজের পরিচালক খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী। তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সব উপকারী জ্ঞানই দ্বীনের অংশ। তাই ‘জেনারেল শিক্ষা’ ও ‘দ্বীনি শিক্ষা’ নামে শিক্ষাকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই; বরং শিক্ষা হতে পারে ‘উপকারী’ ও ‘ক্ষতিকর’—এই দুই ভাগে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কওমী স্টুডেন্ট ফোরাম আয়োজিত ‘সমন্বিত শিক্ষা’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের সহ-আয়োজক ছিল ইন্টেগ্রেটেড মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি এবং পয়া মেইন সানিয়া বাংলাদেশ।

বক্তব্যের শুরুতে সাজ্জাদ নোমানী বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূচনা করেছেন ‘ইকরা’ শব্দের মাধ্যমে। সৃষ্টিকর্তার নামে পড়ার নির্দেশ দিয়ে মানবজাতিকে জ্ঞানার্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা মূলত দুই উৎস থেকে অর্জিত হয়—একটি সৃষ্টিজগৎ পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে, অন্যটি কুরআন, হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে। উভয়ই মানুষের কল্যাণে অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পাশ্চাত্য বিশ্ব শিক্ষাকে ধর্মীয় ও সাধারণ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। কিন্তু মুসলিম সমাজকে এই বিভাজনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ইসলামের স্বর্ণযুগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্পেনে মুসলিম শাসনামলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল, সাহিত্য ও সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মধ্যেও রাজনীতিবিদ, সমরবিদ, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসাবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানী ছিলেন। তাই সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ ও আদর্শবান মানুষ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও মানবিক চরিত্র ধারণ করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য আলেমদের রচিত ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়নের পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি মনজুর নোমানী, আবুল হাসান আলী নদভী ও সোলায়মান নদভীসহ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমের রচিত গ্রন্থের একটি পাঠতালিকাও তুলে ধরেন।

অনলাইনে গোপন গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তিই মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখতে পারে। তিনি বলেন, কেউ মসজিদে যাওয়ার নিয়ত করে ভুল করে সিনেমা হলে পৌঁছে যায় না, আবার সিনেমা হলে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কেউ মসজিদেও যায় না। মানুষের ইচ্ছাই তাকে তার গন্তব্যে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যদি মানুষ গোপনে বিষপান না করে, তাহলে গোপনে গুনাহও করা উচিত নয়।

বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করে সাজ্জাদ নোমানী বলেন, চারদিক থেকে আজানের ধ্বনি শুনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মুফতী মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি শিক্ষাবিদদের পারস্পরিক বিভেদ ও ঘৃণা পরিহার করে সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব কমবে এবং সম্মিলিতভাবে একটি আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সেমিনারে বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মো. সাইফুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান মুনীর নদভী, মাওলানা শহিদুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, নূরে আলম নদভী, মাওলানা কাজী ওয়াসিফ আমীন এবং মাওলানা রাশেদুর রহমান প্রমুখ।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ