রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে সমবেত হচ্ছেন পাঁচ হাজার মাদরাসার প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’

আস-সুন্নাহর সহায়তায় নওমুসলিম আব্দুর রহমান এখন ছয়জনের কর্মসংস্থানের উদ্যোক্তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

একসময় সাধারণ একটি হোটেলে কাজ করতেন জামালপুরের মেলান্দহের নওমুসলিম আব্দুর রহমান। আয় দিয়ে কোনোমতে চলত সংসার। তবে নিজের একটি ব্যবসা দাঁড় করানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। মিষ্টি তৈরিতে দক্ষতাও ছিল বেশ। সেই স্বপ্ন ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর অধীনে কাজ করছেন ছয়জন কর্মচারী।

আব্দুর রহমানের পূর্বনাম ছিল শিপন কুমার পাল। ২০২১ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে নিজের উদ্যোগে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পের আওতায় আব্দুর রহমানকে ১ লাখ টাকা উদ্যোক্তা সহায়তা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে নিজের জমানো কিছু টাকা যোগ করে তিনি শুরু করেন ‘আয়াত আমায়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’।

ব্যবসা শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর তৈরি মিষ্টির স্বাদ ও ব্যবসায়িক সততার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ক্রেতার চাহিদা বাড়তে থাকায় একটি দোকানে মিষ্টি তৈরি করে সরবরাহ করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে চাহিদা পূরণে তাঁকে আলাদা একটি মিষ্টি তৈরির কারখানা স্থাপন করতে হয়।

বর্তমানে আব্দুর রহমানের অধীনে কাজ করছেন ছয়জন কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে চারজন কারখানায় মিষ্টি তৈরি করেন এবং দুজন দোকানে বিক্রির দায়িত্ব পালন করেন। ছয় কর্মচারীর পেছনে প্রতি মাসে তাঁর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। ব্যবসার অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক লাভ থাকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

ব্যবসার পরিধি কতটা বেড়েছে, তার একটি উদাহরণ হলো—একদিনে তাঁর সর্বোচ্চ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার টাকা।

বর্তমানে তাঁর দোকানে রসমালাই, রসগোল্লা, কালোজাম, চমচম, সন্দেশ, লাড্ডু, মিষ্টি দই, জিলাপি, পান্তুয়া ও ক্ষীরসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাময়িক অনুদানের পরিবর্তে মানুষের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আব্দুর রহমানের গল্প সেই উদ্যোগের মাধ্যমে একজন মানুষের স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির একটি দৃষ্টান্ত।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ