মুফতি আল আমিন বিন সাবের আলী
বাংলাদেশে ৬টি ঋতুর মধ্যে বসন্তকালকে বলা হয় ঋতুরাজ। অর্থাৎ সকল ঋতুর রাজা। কারণ, এ ঋতুতে চতুর্দিক সবুজ এবং ফুলের কলি পাপড়ি মেলে ফুটে উঠে। আর তার সৌরভ দিক-বিদিক ছড়িয়ে পড়ে। ঘ্রাণের সুবাসে চতুর্দিক মৌ মৌ করে। গাছে গাছে ফুল ফুটে। ফুল থেকে ফল ধরে পাকতে শুরু করে। আর বাগানে চলার পথে নাকে ভেসে আসে সে ফলের মিষ্টি গন্ধ।
বসন্ত ঋতু যেন সুগন্ধিতে ভরপুর। তেমনি ১২ মাসের মধ্যে রমজান মাস হলো ঋতুরাজ বসন্তের মতো। এ মাস আল্লাহর রহমত, বরকত, ফজল ও করমে ভরপুর একটি মাস। হযরত আহমদ সেরহিন্দ মুজাদ্দিদে আলফে সানি রহ. বলতেন, রমজানে এতো অধিক পরিমাণে রহমত বর্ষিত হয় যা বাকি এগারো মাসে অবতীর্ণ রহমতকে ম্লান করে দেয়।
যেমন এক বিন্দু জল বিশাল সমুদ্রকে ম্লান করে দেয়। আমাদের বুজুর্গান ও মনীষী ব্যক্তিবর্গগণ এ মাসকে নেকি ও পূণ্য অর্জনের ভরা বসন্তই মনে করতেন। এবং সে অনুযায়ী তারা এ মাসকে যথাযথ কাজে লাগাতেন। আমরা তাদের কিছু স্মৃতিচারণ আমাদের জন্য আমলের পাথেয় ও রাহনুমা বানাতে পারি।
যেমন: ১। আব্দুল কাদের রায়পুরি রহ. শাবান মাসের শেষ দিন ভক্ত-মুরিদ-মুতাআল্লিকিনদের ডেকে বলতেন, হায়াতে বেঁচে থাকলে রমজানের পর দেখা হবে। খাদেমকে একটি ছোট বস্তা দিয়ে বলতেন, যত চিঠি-পত্র আসবে এর মধ্যে ভরে রাখবে। হায়াতে যদি বেঁচে থাকি রমজানের পর খুলে দেখব। আর বলতেন, রমজানের এই মাস আল্লাহর গোলামির পেছনে নিজেকে উৎসর্গ করলাম। এভাবে সারা মাস এতেকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করতেন। তার সাথে ভক্ত-মুরিদরাও এসে জমা হতো। এভাবে সমগ্র মসজিদ ভরে যেত লোকে লোকারণ্য থাকত সারা মাস ব্যাপী।
২। শাইখুল হাদিস যাকারিয়া রহ. বলেন, রমজানে নিজেকে শতভাগ ইবাদতে ব্যস্ত রাখতাম। প্রতিটি দিন কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে পার করতাম। কিছু নাওয়াফেল ও জিকির-আজকারও সময় করে আদায় করে নিতাম। আমার এক ঘনিষ্ঠ বাল্যবন্ধু একদিন আমার সাক্ষাতে এল। তাকে জোহরের পর দেখতে পাই। শুধু সালামের জবাব ছাড়া অন্য কোনো কথাই বললাম না তার সাথে।
সোজা রুমে গিয়ে তেলাওয়াত শুরু করে দেই। সেও পেছনে পেছনে এসে বসে থাকে। এভাবে চলতে থাকে আসর পর্যন্ত। আছর নামাযের পরও যখন কথাবার্তা বলার সুযোগ পেল না তখন বলল, ভাই আমাদের কাছেও রমজান এসেছে, তবে তোমাদের কাছে যেভাবে এসেছে সেভাবে নয়।
৩। শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রহ. তারাবিহ নামাজ দীর্ঘ করে পড়তে গিয়ে সাহরি পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন। তার পরিবারের লোকেরা তাকে বিশ্রাম নিতে বলত। তিনি বলতেন, আগামী রমজান হায়াতে পাব কি না জানি না, এবারেরটাকেই শেষ রমজান মনে করে নিজেকে ক্লান্ত করছি। পরে তার ইমাম হযরত কারি সাহেবের মাধ্যমে তাকে বিশ্রামের à