বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মে দিবস: শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী।।

আজ ঐতিহাসিক মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার দিন। প্রতি বছরের মতো সারা বিশ্বে আজো দিনটি পালিত হচ্ছে। মানবতার ধর্ম ইসলামে শ্রমিকের স্বার্থ পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়েছে।

মানুষের উন্নতির চাবিকাঠি হলো শ্রম। শ্রমের মর্যাদা সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। শ্রমের ব্যাপারে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে নির্দেশ দিয়েছেন, "অতঃপর যখন নামায শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো।" (সুরা জুমুআ, আয়াত নং-১০)।

ইসলামে কোনো বৈধ শ্রমই অমর্যাদাকর নয়। শ্রম দ্বারা অর্জিত খাদ্যকে ইসলাম সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং জীবিকা অন্বেষণকে উত্তম ইবাদত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "ফরজ ইবাদতের পর হালাল রুজি অর্জন করাও একটি ফরজ ইবাদত।" (বায়হাকি)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেছেন, "তিনি তোমাদের জন্য ভূমি সুগম করে দিয়েছেন। কাজেই তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তার দেয়া রিজিক থেকে আহার করো।" (সুরা মুলক, আয়াত নং-১৫)।

আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রমকে ভালোবাসতেন। তিনি নিজ হাতে জুতা মেরামত করেছেন, কাপড়ে তালি লাগিয়েছেন, মাঠে মেষ চরিয়েছেন। নবিজী ব্যবসা পরিচালনাও করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে নিজ হাতে পরিখা খনন করে শ্রমের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শ্রমিকের মর্যাদা সম্পর্কে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু।" (বায়হাকি)। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে আরো বলেন, "নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই। আল্লাহর নবি হজরত দাউদ (আ.) নিজের হাতে কাজ করে খেতেন।" (সহিহ বুখারি)।

কুরআন-হাদিস, ইসলামের ইতিহাস পড়লে জানা যায়, নবি-রাসূলগণ শ্রমিকদের কত মর্যাদা দিয়েছেন। ইসলামের চিরন্তন শান্তির আলোয় উদ্ভাসিত ক্রীতদাস হজরত বিলাল (রা.) মুক্ত মানুষে পরিণত হন। তাঁকে সাহাবায়ে কিরাম ‘সাইয়েদুনা’ বা আমাদের নেতা বলে সম্বোধন করতেন। তাঁকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিশয় সম্মানজনক মুয়াজ্জিন পদে নিযুক্ত করেন। মক্কা বিজয় করে কাবা ঘরে প্রথম প্রবেশের সময় মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বেলাল (রা.) ও আরেক ক্রীতদাস হজরত খাব্বাব (রা.)-কে সাথে রেখেছিলেন। নবিজী কখনো নিজ খাদেম হজরত আনাস (রা.)-কে ধমক দেননি এবং কখনো কোনো প্রকার কটুবাক্য ও কৈফিয়ত তলব করেননি। এ সম্পর্কে হজরত আনাস (রা.) নিজেই বলেন, "à