আলহাজ হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক।।
ইসলামের ইতিহাসে ১৭ রমজান ‘বদর দিবস’ নামে বিবেচিত। ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান মাত্র ৩১৩ জন মুজাহিদ সেদিন হিজরি দ্বিতীয় সনে মোতাবেক ১৩ মার্চ ৬২৪ সালে মদিনার অদূরে ৮০মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর নামক স্থানে কাফেরদের সঙ্গে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। মাহে রমজানে সংঘটিত এ যুদ্ধ ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ নামে আখ্যায়িত।
আল্লাহর পথের দাওয়াত দেওয়ার কারণে মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. কে মক্কার কাফেররা নির্যাতন করতে লাগলো। দিন দিন সেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলো। অবশেষে মহানবী সা. ইসলামের শত্রুদের চাপের মুখে এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে নিকটাত্নীয় এবং সাহাবীদের নিয়ে ৬২২ সালে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন।
এই হিজরত থেকেই হিজরি বছর গণনা শুরু হয়। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর সে জন্য ইসলামের প্রসার প্রয়াসকে অংকুরেই সমূলে ধ্বংস করার জন্য মক্কার কাফের অধিপতিরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবং মদিনাতেও মুসলমানদের জীবন নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তোলে।
তাদের এই ষড়যন্ত্রে যোগ দেয় মদিনায় থাকা তাদের দোসররা তথা স্থানীয় ইহুদি ও নিকটবর্তী কিছু খ্রিষ্টান। হিজরি দ্বিতীয় সনে আবু সুফিয়ানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় মক্কার কুরাইশ বংশের বড় বড় লিডার ও যোদ্ধা যেমন আবু জেহেল , উৎবা, শায়বাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদর প্রান্তরে এ যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামের প্রথম ও প্রসিদ্ধ এই যুদ্ধের বিবরণ ও বিশেষত্ব সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বহু আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। বিখ্যাত তাফসিরতত্ত্ববিদ হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, বদরের যুদ্ধের পূর্বে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হলেও অন্তত ৭০টি আয়াতে মুসলমানদের যুদ্ধ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে মহানবী সা. সবাইকে ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দেন।
কিন্তু বদরের যুদ্ধের পূর্বেই পবিত্র কুরবআনে এই প্রথম কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে আয়াত নাজিল হয়-“আল্লাহ মুমিনদের থেকে শত্রুদের হাটিয়ে দিবেন। আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।
যুদ্ধে অনুমতি দেওয়া হলো তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে। কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম”। (সূরাঃ হজ্জ, আয়াত-৩৮,৩৯) হিজরি দ্বিতীয় সনে মুসলমানদের উপর আল্লাহ তায়ালা রোজা ফরজ করেন, সে বছরই বদর যুদ্ধের সময় মুসলমানগণ প্রথমবারের মতো রমজান মাসে রোজা পালন করছিলেন।
ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্নে, যখন শত্রুরা ছিল প্রবল ও পরাক্রমশালী; তখন অল্প সংখ্যক মুসলমানরা ছিল স্বাভাবিকভাবেই হীনবল। কাফের কুরাইশদের ছিল প্রায় ১০০০ সৈন্য, ১০০টি ঘোড়া এবং ১৭০টি উট।
পক্ষান্তরে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন আর ৭০টি উট ও মাত্র ২টি ঘোড়া। সে সময় আল্লাহর সাহায্য পাওয়া ছিল অপরিহার্য। মুসলমানদের মানোবল বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ তায়à