শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ।। ১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৫ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রায় ৫ হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন পাচ্ছেন সম্মানী, আজ উদ্বোধন দেশে ফিরলেন কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি বজ্রপাতে প্রাণ গেল যুবকের  সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের মায়ের জানাযা অনুষ্ঠিত রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি, নিহত ৩ ‘শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’   মুফতি হিফজুর রহমানসহ জামিআ দাওয়াতুল কুরআনে যোগ দিচ্ছেন একঝাঁক শিক্ষক ইরাকে মার্কিন জ্বালানিবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ৪ সেনা নিহত ইরানের স্কুলে নিহত শিশুদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার দেবে চীন ‘মির্জা আব্বাস আলেম-ওলামা ভক্ত ও জনহিতৈষী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’

চরমোনাই ‘হক’ বারবার বলতে হবে কেন?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মুফতি শামছুদ্দোহা।।

চরমোনাই ‘হক’ বারবার বলতে হবে কেন? উক্ত প্রশ্নটি একসময় আমারও ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরের বেশ কিছু ঘটনা প্রবাহ ও পক্ষে-বিপক্ষে বাড়াবাড়ি দেখে এবং আমার নিজের সাথে সংগঠিত কিছু পরিচিত ও প্রিয়জনদের আচরণ দেখে একথাকে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। তাছাড়া হক কোন জামায়াতকে পুনরায় হক বললে অসুবিধা কী এটাও আমার বোধগম্য নয়।

পক্ষপাতিদের কারো কারো বক্তব্যে একমাত্র,কেবলমাত্র, শুধুমাত্র হক জামায়াত, হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে আখ্যা দিতে দেখা যায়,যা লাভের চেয়ে ক্ষতির কারণ হয়।

আবার বিরুদ্ধবাদীদের কারো কারো লেখায় ও বক্তব্যে চরমোনাইকে সুস্পষ্টভাবে বাতিল সাব্যস্ত করার এমনকি তাদেরকে দেওয়ানবাগী, রাজারবাগী ইত্যাদি ভন্ড পীরদের সাথে মিলিয়ে ভন্ড উল্লেখ করতেও দেখেছি। আমার বহু পোস্টে অপ্রাসঙ্গিকভাবেও অনেককে দেখেছি যারা আল্লাহর নামে কসম কেটে এ জামাতকে বাতিল ও ভন্ড উল্লেখ করেছেন।

বিষয়টি আমার সামনে আরো অধিক স্পষ্ট হয়েছে এবার চরমোনাই সফরকে কেন্দ্র করে।' চরমোনাই যাব, চরমোনাই যাচ্ছি ' এমন পোস্ট করার সাথে সাথে একদল আমার উপর হামলে পড়েছে! যাচ্ছেতাই অপবাদ,মিথ্যাচার দেওয়া শুরু করেছে! যেন আমি কোন বাতিল ও ভন্ডদের মাহফিলে যাচ্ছি!!! (ইনশাআল্লাহ এসবের সমুচিত জবাব দিব,ইনশাআল্লাহ)।

তাদের আচার আচরণ ও কার্যক্রমে মনে হয় চরমোনাইকে বাতিল সাব্যস্ত করতে পারলেই যেন তারা সফল। এজন্য অন্য কোন বাতিল নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নাই।

কাদিয়ানী, আহলে কোরান,আহলে হাদিস ও হেযবুতিদের নিয়ে পোস্ট করেও আমি খোচার শিকার হয়েছি!! যেন এসবের চেয়েও চরমোনাই অধিক ক্ষতিকর ও ভয়ংকর!!

চরমোনাই তথা ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপার আমার অবস্থান হল, এটি একটি হকপন্থী জামায়াত। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ'র অন্তর্ভুক্ত।

আমি তাদের হক মনে করি যেমনটা আকাবীর ও আসলাফদের মুখ থেকে শুনেছি এবং নিজেও তাহকীক করে সেভাবেই পেয়েছি। তাই হক মনে করি ও বলি। তবে একমাত্র, কেবলমাত্র, শুধুমাত্র এসব শব্দ ব্যবহার যথাযথ মনে করিনা। বরং এগুলোকে ক্ষতির কারণ মনে করি।

হকপন্থী মনে করার মানে এই না যে তাদের কোন ভুলত্রুটি নেই/ভুলত্রুটির উর্ধে। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ মানুষ হওয়ায় তাদের ভুলত্রুটি হতেই পারে,হয়েছেও। ওইগুলোক সংশোধনের নিয়তে ধরিয়ে দেয়া/সংশোধন করে দেয়া উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব।

দায়িত্বশীল শ্রদ্ধেয় অনেক উলামা হজরতদেরকে এ খেদমত করতে দেখেছি। আমি নিজেও বেশকিছু ব্যাপারে অনলাইনে ও অফলাইনে অবগত করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। ভালো ফলাফলও পেয়েছি।

আমি সংশোধন প্রত্যাশি কোন জামায়াতকে দূরে ঠেলে দেয়ার পক্ষপাতী নই। এবার মাহফিলেও বারবার স্বয়ং পীর সাহেব হুজুরের মুখে বারবার শুনেছি তিনি উলামায়ে কেরামদের প্রতি আহবান জানিয়ে বারবার বলেছেন, আমাদের কোন ভুলত্রুটি থাকলে তা ধরিয়ে দিন, আমরা শুধরে নিব,ইনশাআল্লাহ।

এমনকি উলামায়ে কেরামদেরকে নিয়ে আলাদা মাজলিস করে সেখানেও একই আহবান জানিয়েছেন। ওই মজলিসে অনেক উলামায়ে কেরাম নিজেদের মনের কথাগুলো প্রাণ খুলে বলেছেন। তারাও সংশোধন হওয়ার ও শুধরে নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এরপর আর কি বলার থাকে বলুন?

প্রতিবছর উলামা সম্মেলন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ সম্মেলনে প্রদত্ত বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে ফেবুপাড়া গরম হয়ে উঠে৷ কারো কারো ব্যক্তিগত বক্তব্য ও মতামতের ভিত্তিতে ইসলামি আন্দোলন ও চরমোনাই পীরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তুলোধুনা করা হয়।

আসলে এ সম্মেলনের বক্তব্য মোটেও নিয়ন্ত্রিত নয়,নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবও নয়। এখানে কে কি বক্তব্য এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ও নিজস্ব ব্যাপার।

সুতরাং যারা একথা প্রচার করছেন যে,আয়োজন করে নিজেদের পক্ষে গুণগান গাওয়ানো হয়,হক ঘোষণা করা হয় এইসব ভিত্তিহীন,অমূলক ও ধারণাপ্রসুত কথা। মোটা অংকের হাদিয়া,কিনে ফেলা এসব উলামায়ে কেরামের প্রতি সুস্পষ্ট অপবাদ ও তোহমত। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। -লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ