যোবায়ের ইবনে ইউসুফ।।
নবীজি সা. বলেছেন, ইবাদতের ফজিলতের চেয়ে ইলমের ফজিলত অধিক বেশি। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/১৭১।) এই ইলম যারা বহন করেন তাদেরকে আলেম বলে। অন্যদের থেকে আলেমদের মর্যাদাও অধিক বেশি। জেনে নেয়া যাক, ঠিক কী কী কারণে তাদের মর্যাদা এতো বেশি: -
এক. জ্ঞানী এবং মূর্খ সমান নয়। ইলম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহামূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদ যার আছে, সে আলেম। যার নেই, সে জাহেল। আলেম এবং জাহেল সমান নয়। যা আমরা জেনেছি কুরআন মাজিদ থেকে।
এরশাদ হয়েছে, 'বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তার কি সমান? বোধসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।' (যুমার: ০৯)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অথবা আলো ও অন্ধকার কি এক হতে পারে?' (রা‘দ: ১৬)।
দুই. নবীদের উত্তরাধিকারী। ওহী প্রেরণ করার মাধ্যমে নবী-রাসূলগণকে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়ত বা জ্ঞানের নাম ওহী। নবী-রাসূলগণের সেই ইলমে ওহীর উত্তরাধিকারী হলেন আলেমগণ।
নবীজি (সা.) বলেছেন, 'আলেমগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী। নবীগণ দীনার বা দিরহামকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান নি। বরং তারা রেখে গিয়েছেন কেবল ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেছে, সে বিশাল অংশ গ্রহণ করেছে।' (আবু দাউদ: ৩৬৪১)।
তিন. সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। আলেমদেরকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এবং আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম বা জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা আল্লাহ বাড়িয়ে দিবেন। (সূরা মুজাদালা: ১১)।
নবীজি সা. বলেছেন, 'যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না, এবং আলেমদের বা জ্ঞানীদের মর্যাদা-অধিকার বুঝে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।' (মুসনাদে আহমদ: ৫/৩২৩)।
চার. আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি। আলেমগণ ইলমে ওহীর বাহক। এই ইলম বা জ্ঞান যে কেউ অর্জন করতে পারে না। আল্লাহ যার কল্যাণ চান এবং যাকে মনোনীত করেন, কেবল সে-ই তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান বা বুঝ দান করেন। (মুসনাদে আহমদ: ৪/৪৭)।
কুরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে উক্ত প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়। বস্তুত, জ্ঞানীরা ব্যতীত কেউই উপদেশ গ্রহণ করে না' (বাকারা: ২৬৯)।
পাঁচ. সমগ্র সৃষ্টি দোয়া করে। আলেমদের জন্য সমগ্র সৃষ্টিকুল দোয়া করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষকে কল্যাণের শিক্ষাদানকারীর জন্য সমগ্র সৃষ্টি; এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করে। (ইবনে মাজাহ: ১৯৭)
ছয়. আলে