সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

কুমিল্লার ঘটনা: কোরআন শরিফে অনেকের ফিঙ্গার প্রিন্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) খান মোহাম্মদ রেজওয়ানের নেতৃত্বে রিমান্ডে থাকা ইকবাল ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাকে সহযোগিতা করছে সিআইডির একটি স্পেশাল টিম। জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল নতুন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সব বিষয়ে খুবই সতর্কতার সঙ্গে আগাচ্ছে তদন্ত দল।

পুলিশ জানায়, কুমিল্লার ঘটনায় কারা মূল পরিকল্পনাকারী, ইকবালকে পেছন থেকে কারা ইন্ধন জুগিয়েছেন, কক্সবাজার যেতে কারা পরামর্শ দিয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরালে কাদের হাত রয়েছে, এসব বিষয় ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইকবালসহ বর্তমানে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড চলছে।

এ মামলায় আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন, ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে ফোন করা রেজাউল ইসলাম ইকরাম, দারোগা বাড়ি মাজার মসজিদের সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কবির সানাউল্লাহ।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, গত ২৪ অক্টোবর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের স্বার্থে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলার সব ডকুমেন্ট আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ইকবালের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রিমান্ডে প্রতিদিনই আমরা নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। সব তথ্য সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য বলা যাচ্ছে না। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হচ্ছে মণ্ডপ থেকে পুলিশের উদ্ধার করা পবিত্র কোরআন। ওই কোরআন শরিফে অনেকেরই ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকায় আমরা (সিআইডি) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে সুনির্দিষ্ট কারও ফিঙ্গার প্রিন্ট পাইনি। তবে ইকবালের কাঁধে থাকা হনুমানের গদা উদ্ধারের পর ইকবালের ফিঙ্গার প্রিন্ট পাওয়া গেছে।

রিমান্ড শেষ লিখিতভাবে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা। এর আগে শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে ইকবালসহ চারজনকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তার আগে গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকার সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরের নানুয়ার দিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ১১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বুধবার পর্যন্ত মোট ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ