শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১১ রমজান ১৪৪৭


বঙ্গবন্ধু সেতুর ৪৫ ভাগ বিয়ারিংয়ে ত্রুটি!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বিশ্বের ১২তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতুটি হল বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৯৯৮ সালের জুনে এটি উদ্বোধন করা হয়। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর ১১২টি বিয়ারিং প্যাডের মধ্যে প্রায় ৪৫ ভাগেই ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ম্যানুয়াল বলছে, এসব বিয়ারিং ২০-৩০ বছরের সার্ভিস লাইফের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পট বিয়ারিংয়ের সমস্যায় সেতুটি তাৎক্ষণিকভাবে হুমকির মুখে পড়বে না। তবে এসব বিয়ারিং প্রতিস্থাপন বিলম্বিত হলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভার স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ এই উপকরণগুলো দ্রুত পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুতে বিয়ারিং সরবরাহ করেছে ইতালির একটি এফআইপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রুতিযুক্ত বিয়ারিংগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক একটি সভা হয় সেতু বিভাগে। এতে সভাপতিত্ব করেন এ বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক। সেখানে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থান করা হয়। তবে সেতুতে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই সভার কার্যবিবরণীতে।

ওই প্রতিবেদনটি দিয়েছে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। বঙ্গবন্ধু সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে কোম্পানিটি। পট বিয়ারিং মূলত সুপারস্ট্রাকচার থেকে পিয়ারে ভার স্থানান্তর করে থাকে। এটি সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় সৃষ্ট কম্পন কমাতেও ভূমিকা রাখে।

এসব বিয়ারিংয়ের ত্রুটি দেখা দেয়ার পেছনে সেতুর নিয়মিত ও পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করেছেন কেউ কেউ। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত বলছেন, বিয়ারিংগুলোর সার্ভিস লাইফ শেষ হওয়া এবং সেগুলো অবিলম্বে প্রতিস্থাপন করা দরকার।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ