বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আমলে যদি ইখলাস না থাকে, তাহলে সেটা মূল্যহীন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মাদ মাহদী হাসান

ইখলাস হলো মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মুসলমানদের একত্ববাদের বিশ্বাস ও আমলের প্রতিদানের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা ইখলাস বিহীন সম্পূর্ণ বৃথাই পরিণত হবে।

ইখলাসের আভিধানিক অর্থ:

ইখলাস শব্দটি আরবি 'আখলাসা' শব্দ হতে নির্গত। এ শব্দের 'মুজারেয়' হল, 'য়ুখলিসু' আর এর মাছদার, 'ইখলাসান' অর্থাৎ নিরেট বা খাটি বস্তু; কোনো বস্তু নির্ভেজাল ও খাটি হওয়া এবং তার সাথে কোন কিছুর সংমিশ্রণ না থাকাকে ইখলাস বলে। যেমন, বলাহয় ' আখলাসার রাজুলু দ্বীনাহু লিল্লাহ' অর্থাৎ, লোকটি তার দ্বীনকে কেবল আল্লাহর জন্যই খাস করল। লোকটি তার দ্বীনের বিষয়ে আল্লাহর সাথে কাউকে মিলায়-নি বা শরিক করে নি।

মানবজাতি ও জ্বীন জাতিকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মহান রব্বুল আলামিন। পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ' আমি মানবজাতি ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি, একমাত্র আমি( আল্লাহ পাকের) ইবাদাত করার জন্যে।

মুফাসসিরগণ উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় উম্মতকে বুঝানোর নিবৃত্তে প্রশ্ন করে বলেন। আমরা তো শারিরীক,পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণে নামাজ, রোজা, হজ্ব,যাকাত, আদায়ের পর জীবিকা নির্বাহের কাজে,অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য, ও কৃষি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকি, তাহলে কিভাবে আল্লাহ তা'য়ালার ঘোষণার উপর আমল করা সম্ভব হবে?

অর্থাৎ (কেবলমাত্র আল্লাহ পাকের ইবাদাত করা কিভাবে সম্ভব?) প্রশ্নের সাথে সাথে মুফাসসিরীনে কেরামগন, উত্তরে বলেন, বান্দার সমস্ত কাজকর্ম যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ অনুসারে, একনিষ্ঠতার সাথে, কেবলমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হবে, তখন এসকল কর্মকাণ্ড ইবাদাতের মাঝে গণ্য করা হবে।

অপর দিকে যদি কোন ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ,রোজা, হজ্ব, যাকাত ও ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাহ, সহ নফল আমলের নিয়মিত পাবন্দীও হয়।আর যদি ইখলাস না থাকে, তাহলে এসকল আমলের কোনটিই ইবাদত হিসাবে গণ্য করা হবে না।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, আপনি বলুন: আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। [সূরা: আল আন’আম, আয়াত: ১৬২- ১৬৩]

আর আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত ব্যতিত দিনরাত একাকার করে যত আমল'ই করা হোক তাতে বিন্দুমাত্র প্রতিদানের আশা ও করা যাবেনা।

এপ্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,'সমস্ত আমল'ই নিয়তের ( বিশুদ্ধতার) উপর নির্ভরশীল, মানুষের জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে হয়, তার হিজরত আলà