আমিনুর রহমান হাসান।।
পিতা-মাতার কাছে আমরা সব সময় ঋণী। এই ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। সন্তানের প্রতি মাতাপিতার অনুগ্রহ এতোটাই যে, সন্তান চাইলেও সারাজীবনে সেটা পরিশোধ করতে পারবে না। তবে আল্লাহ তায়ালা মাতাপিতার প্রতি সন্তানের কিছু কর্তব্য বলে দিছেন, যেগুলোর মাধ্যমে মাতাপিতার হক কিছুটা হলেও আদায় হয়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন, ‘আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। যদি পিতামাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তুমি তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটি পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না বরং তাদের সাথে বিনম্রভাবে সম্মানসূচক কথা বলো। আর তাঁদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত কর। আর দোয়া কর, হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি রহমতের আচরণ করুন, যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন (সূরা বনী ঈসরাইল আয়াত: ২৩-২৪)।’
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, কোন কিছুর সাথে তার শরিক করো না এবং পিতামাতার সাথে উত্তম ব্যবহার কর (সূরা নিসা ৩৬ আয়াত)।
সুরা লোকমানে আল্লাহ বলেন, আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর এবং তোমার মাতাপিতারও কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর (আয়াত-১৪)।
আব্দুল্লাহ বিন আববাস রাদি. হতে বর্ণিত, হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, যে নেক্কার ছেলে নিজ মাতাপিতার প্রতি রহমত ও আন্তরিকতার দৃষ্টিতে একবার তাকাবে, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে তার জন্য একটি মাবরুর হজ্বের (মকবুল হজ্বের) ছওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন। সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি উক্ত ব্যক্তি দৈনন্দিন একশত বার তাকায়, তাহলে? তিনি উত্তরে বলেন, হ্যাঁ! আল্লাহ তায়ালা সুমহান ও বড় করুণাময়। (বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান ১০/২৬৫)।
অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নতুবা তা রক্ষা করতে পারো। (তিরমিযী, তুহফাতুল আহওয়াযী, ৬/২৫)।
আবু উমামা রাদি. হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলো, হে আল্লাহর রাসুল! সন্তানের ওপর পিতামাতার হক কি আছে? তিনি বললেন, তারা তোমার বেহেশত ও দোযখ (ইবনে মাজাহ-৪৯৪১)।
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, মাতাপিতার সাথে সদাচরণ করলে আমরা জান্নাতী হবো এবং অসদাচরণ করলে জাহান্নামী হবো। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের চেয়েও পিতামাতার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ যত্নশীল হতে হব