আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও শরীরে এর প্রভাব ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এমনকি আরও দীর্ঘমেয়াদ নিয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইআইএমএস) ডিরেক্টর।
এইমস প্রধান বলেন, করোনা সেরে গেলেও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। একইসঙ্গে সচতেন থাকতে হবে আগের মতোই।
ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরে অনেককেই আবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। অনেকেই ভুগছেন গায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায়। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক বৈঠকে গুলেরিয়া দাবি করেন, করোনা থেকে সেরে উঠলেও দীর্ঘদিন ধরে শরীরে নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
‘যদি সুস্থ হওয়ার পরে চার থেকে ১২ সপ্তাহ ধরে উপসর্গ দেখা যায় তখন সেটিকে ‘পোস্ট অ্যাকিউট কভিড সিনড্রোম’ বলা হয়। আর যদি উপসর্গ তিন মাসের বেশি সময় ধরে শরীরে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে সেটিকে ‘লং কভিড সিনড্রোম’ বলা হয়ে থাকে।’
করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরে শরীরে যে উপসর্গ দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো শ্বাসকষ্ট। গুলেরিয়ার কথায়, ‘ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি, বুকে ব্যথা, পালস রেটের হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অতি সক্রিয়তার কারণে এ ধরনের সমস্যাগুলো পরবর্তী সময়ে দেখা যায়।’
গুলেরিয়ার মতে, একটি অতি পরিচিত উপসর্গ হলো ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম। কাজ করতে গিয়ে অল্পেতেই হাঁফিয়ে উঠছেন সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা। সে কারণে ধাপে ধাপে কর্মজীবনে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এছাড়া গাঁটে ব্যথা, শরীরে ব্যথা, সারা শরীরজুড়ে ক্লান্তি, মাথা ব্যথার সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।
গুলেরিয়া বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রেন ফগ নামে একটি রোগের কথা শোনা যাচ্ছে, যাতে সুস্থ হয় ওঠার পরে ব্যক্তিদের কোনো কাজে মনঃসংযোগ করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই কভিড থেকে ওঠার পরে মানসিক অবসাদ ও অনিদ্রায় ভুগছেন। তার কথায়, ‘এ ধরনের উপসর্গগুলো টানা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।’
-এএ