বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


দাওয়াতি বিষয়ে সিলেবাস বা শিক্ষা কারিকুলাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা কালিম সিদ্দিকি।।
অনুবাদক: শরীফ আব্দুল্লাহ

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানি এর নির্দেশে আমি হায়দারাবাদ আল মাহাদুল উলুমে যাই। তিনি আমার কামরায় আগমন করে বলেন, হায়দারাবাদের কিছু সম্মানিত উলামায়ে কেরাম এসেছেন। তারা আপনার সাক্ষাৎপ্রার্থী।

আমি অধম আরজ করলাম, এই গুনাহগারের জন্য উলামায়ে কেরামের সাক্ষাৎ বড় সৌভাগ্যের বিষয়। সে সময় বিশিষ্ট কিছু আলেম আসেন আমার কাছে। হায়দারাবাদের বড়ই মাকবুল এবং বিশেষ একজন আলেম মাওলানা রেজওয়ানুল কাসেমিও এসেছিলেন। উলামায়ে কেরাম কথা বলার জন্য এই মাওলানাকে দায়িত্ব অর্পন করেন।

তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি পাঁচ বছর পূর্বে তিন বছর ধারাবাহিক সফর করে আলেম এবং মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদেরকে দ্বীনের দাওয়াতি কাজের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। আর তখন আমরা মাদ্রাসা ‘সাবিলুস সালাম ও দারুল উলুম হায়দারাবাদে’ দাওয়াতি শাখার ক্লাশ খোলি। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের নিকট মাদ্রাসায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডিগ্রী নেওয়ার জন্য বিন্যস্ত সিলেবাস বা শিক্ষা কারিকুলাম আছে।

তাফসির, হাদিস, ফিকাহ, আদব ও ইত্যাদির উপর এমন বিন্যস্ত সিলেবাস বিদ্যমান আছে, যা আমরা পড়িয়ে যাচ্ছি। আপনার বলার কারণে আমরা দাওয়াতি বিভাগ খুলেছি। কিন্তু দাওয়াতি বিষয়ে পড়ানোর জন্য আমাদের কাছে বিন্যস্ত সুন্দর কোন সিলেবাস নেই। তাহলে আমরা কী পড়াবো? আরমোগানে প্রকাশিত সংখ্যায় ধারাবহিক দাওয়াতি বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখাগুলো উৎসাহমূলক কাজ করে থাকে।

কিন্তু সে গুলো তো আর পড়াবার জন্য কোন নেসাবের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আপনি বলুন, এখন আমরা কী করতে পারি? ঐ সময় তাৎক্ষণিক একটি কথা আমার মাথায় আসে, তা আমি উলামাদের সামনে পেশ করি যে, দাওয়াতের জন্য আলাদা নেসাবের কী প্রয়োজন? কুরআন এবং সিরাতে নববিই তো দাওয়াতের পূর্ণাঙ্গ নেসাব। সুতরাং কুরআন ও সিরাতকে দাওয়াতি দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমরা পড়াবো। উত্তর দিয়ে আমি মনের দিক থেকে প্রশান্তি অনুভব করি যে, কী সুন্দর উত্তর আল্লাহ তায়ালা আমার অন্তরে ঢেলে দিয়েছেন।

কিন্তু যখন রাতে ঘুমুতে যাই, তখন আমার মাথায় এই উত্তরের ত্রæটির বিষয়ে চিন্তা এলো যে, কুরআন আর সিরাতে নববি তো আমাদের সকল দ্বীনি বিষয়ের নেসাব। যদি আমরা তাফসির পড়াই, তাহলে কুরআন এবং সুন্নাহ থেকেই তো পড়াবো। আর যদি হাদিসের তাখাসসুস করাই তাহলে তাহলেও তো কুরআন ও সুন্নাহ থেকেই পড়াবো। ফেকাহ, ফতোয়া এবং তার নিয়ম কানুনও তো কুরআন ও সুন্নাহ থেকেই অনুসন্ধান করেই আমরা পড়াবো। এমনকি আরবি সাহিত্যও আমরা কুরআনের নীতিমালার বাহিরে আমরা আর কোথা থেকে পড়াই?

আমি আমার কর্মস্থলে চলে আসি। তারপর থেকে আজ পর্যবন্ত অন্তরে আর মস্তিস্কে সেই বিষয়টির প্রভাবক্রিয়া কাজ করছে। আমাদের কতো বড় ত্রæটà¦