যুবাঈর আহমাদ।।
সময়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ ও মুনসিফ ইতিহাসবিদ, উম্মাহর দরদ-ব্যথা অন্তরে প্রবলভাবে লালনকারী, বিজয়ের শতাব্দীতে উম্মাহর সন্তানদের পুরনো সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যিনি জীবন ওয়াকফ করে দিয়েছেন। নিজের কাজের মূল্যায়নে বাংলাদেশি এক মনীষীর ক’লাইনের মন্তব্য পেতে নিজেকে যিনি মুহূর্তেই একজন সাধারণ তালিবে ইলমের পর্যায়ে নিয়ে আসেন; তিনি মাওলানা ইসমাইল রেহান।
হাফেজ মাওলানা ইসমাইল জন্মেছেন করাচীতে। কিন্ত রক্তের সম্পর্ক তার পাঞ্জাবে। ইসলামাবাদ থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে গেলে আটক জেলা। এই জেলাতে অবস্থিত বিখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক স্থান। মোগল দরবারের দুজন বিখ্যাত হেকিম ভাইয়ের মাকবারাও (হাকীমো কা মাকবারা) এখানে অবস্থিত। এটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা। এখানেই হাসান আবদাল এলাকায় খালিক দার গ্রামে তার স্থায়ী নিবাস। বাবার কর্মস্থলের সুবাদে তার জন্ম হয় করাচীতে। পহেলা ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১। আব্দুল আজিজেরর সুপুত্র হিসেবে তার প্রাথমিক নাম রাখা হয় মুহাম্মদ ইসমাইল। লেখালেখির সময় পুরো নাম মুহাম্মদ ইসমাইল রেহান ব্যবহার করেন। করাচীর পুরনো গোলিমার এলাকায় তিনি বড় হয়েছেন।
হিজরতের পর পূর্ব পাঞ্জাব থেকে লাখো মুহাজির এই এলাকায় এসে বসতি গড়েছিলেন। প্রাণচাঞ্চল্যে পূর্ণ ছিল এই এলাকাটি। প্রায় সকল এথনিক মাইনরিটি এই এলাকায় কালিমার পরিচয়ে একত্রিত হয়েছিলেন। বসবাস করতেন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে।
তিনি বলেন, আমার পূর্বপুরুষরাও ইসলামি দেশে বসবাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্বে হিজরত করেছিলেন। সময়ের ভাষা তাদের রিফিউজি বললেও নানাবাড়ির পুরনো দলীলে আমি ঠিকই ‘Muhajir Residential Allotment’ শব্দ দেখেছি। নিজ চোখে। আজও সময় পেলে দস্তাবেজগুলো খুলে দেখি। ঝাপসা চোখে ভেসে ওঠে পুরনো দিনগুলো। আশরাফানাল্লাহু বিল আউদাতি ইলাল ইমারাতি ওয়াল খিলাফাহ।
পারিবারিকভাবে একটি সাধারণ দ্বীনি পরিবেশে তিনি বেড়ে ওঠেন। মায়ের কাছে দ্বীনিয়াত বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় স্কুলে ফরমাল এডুকেশন গ্রহন করেন। মেধাবী ছাত্র মুহাম্মদ ইসমাইল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর জীবন একটি আচমকা মোড় নেয়। ফরমাল এডুুকেশন থেকে দ্বীনি শিক্ষায় ধাবিত হন। ভর্তি হন দারুল উলুম করাচীতে। একদম প্রথম থেকে শুরু করেন। হিফজ করে কুরআন। কৈশোরের শেষপ্রান্তে এসে হিফজের চ্যালেঞ্জ এতটাও সহজ ছিল না। এই নেয়ামত তিনি তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করে অর্জন করেন। এই সময়ে নিয়মিত শায়খুল ইসলামের ইসলাহী মজলিসগুলোতে বসতেন। ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত তিনি শায়খুল ইসলামের দ্বারাই হয়েছেন। শায়েখের মজলিসে শোনা ইসলামের হারানো ঐতিহ্য ও অতীতের গল্পগুলো তাকে মà§