আওয়ার ইসলাম: ঈদের আগেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলপ্রত্যাশীদের খুশির সংবাদ জানাতে চায় শিক্ষা প্রশাসন।
চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের একটি রীতি চালু হয়েছে।
এ রীতি অনুযায়ী বিগত ১০ বছর জেএসসি ও সমমান, এসএসসি ও সমমান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রীতির এবার ব্যত্যয় ঘটছে।
করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকার সারাদেশে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র শিক্ষকরা মূল্যায়ন শেষ করে নম্বরপত্র (ওএমআর শিট) বোর্ডে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থায় ওএমআর শিট পরীক্ষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ডগুলো।
ওএমআর শিট সংগ্রহ শেষ হলে এগুলো স্ক্যান করে কম্পিউটারাইজড ডেটা তৈরির মাধ্যমে ফল তৈরি সম্পন্ন করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গতকাল বুধবার বিকালে জানান, পরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে বোর্ডগুলোকে। বিকল্প হিসেবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই এ উত্তরপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। ১০ মের
মধ্যে সব উত্তরপত্র বোর্ডে জমা হলে বোর্ডের কাজ দুই শিফটে করা হবে। প্রস্তুতি নিচ্ছি ঈদের আগেই ফল প্রকাশের।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল ছালাম গতকাল বুধবার বিকালে জানান, কয়েকটি জেলা থেকে বোর্ডের গাড়ি পাঠিয়ে পরীক্ষকদের কাছ থেকে ওএমআর শিট নিয়ে এসেছেন। হাতিয়ার দুর্গম এলাকা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় স্পিডবোটের মাধ্যমে উপকূলে নিয়ে এসেছেন। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সব পরীক্ষকের কাছ থেকে ওএমআর শিট নেওয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।
এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন।
গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফল প্রকাশ করা হয়েছিল ৬ মে। পরীক্ষা শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি। এবার ফল প্রাকাশের সম্ভাব্য দিন ৯ মে। এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৩ ফেব্রুয়ারি।
-এটি