বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ বলা সেই কর্মকর্তাকে নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেশের জন্য শুধু আমরাই কথা বলছি, চারদিকে নীরবতা: মাওলানা ফজলুর রহমান ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি রাজধানীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে সরকারের ব্যর্থতাও দায়ী: ইসলামী আন্দোলন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে নরসিংদীতে বিকেএমের মতবিনিময় ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি পরীক্ষা হবে ৫০৯ কেন্দ্রে মাদরাসার স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: মুফতি তাকি উসমানী শতবর্ষী কাদেমি মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার, বিকল্প জায়গা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের গোলাপগঞ্জে জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া ইদ্রিসিয়ার সম্মেলন ৯ নভেম্বর

উকবা ইবনে নাফি: মুসলিম বিশ্বের আলেকজান্ডার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইশতিয়াক আহমেদ ।।

তিনি একজন মুসলিম সেনাপতি। যাকে বলা হয় মুসলিম বিশ্বের আলেকজান্ডার। উনার জন্ম ৬২২ সালে মক্কা নগরীতে। উনার জন্ম হয়েছিল কুরাইশ বংশের সাথে সম্পৃক্ত বংশে৷

আমর ইবনুল আসের উত্তর আফ্রিকা অভিযানের সময় উকবা ইবনে নাফি তার সাথে অংশগ্রহণ করেন। ৬৭০ সালে তিনি কমান্ডার হিসেবে একটি দলের নেতৃত্ব পান।

উকবা ইবনে নাফি প্রচন্ড বেগে ধেয়ে যাচ্ছিলেন আফ্রিকা মহাদেশের দিকে। একের পর এক ভূখন্ড জয় করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সামনের দিকে।

তিনি তার বাহিনী নিয়ে তিউনিসিয়ার তিউনিস শহর থেকে ১৬০ কিমি দক্ষিণে একটি শহর স্থাপন করেন কাইরুয়ান নামে। কাইরোয়ান শব্দটির মূল অর্থ সেনাছাউনি। শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। যেহেতু উকবা ইবনে নাফি এখানে প্রথম সেনাছাউনি স্থাপন করেছিলেন, সে সূত্রেই এই জায়গাটির নামকরণ করা হয় কাইরোয়ান বা সেনাছাউনি। এই কাইরুয়ান শহর থেকেই পরবর্তীতে তিনি তার সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন। বর্তমানে এটি তিউনিশিয়ার একটি প্রাদেশিক রাজধানী।

১৯৮৮সালে ইউনেস্কোর ১২তম অধিবেশনে এই শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছে। ওআইসি ২০০৯ সালে এই শহরটিকে ইসলামী সভ্যতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং একে আফ্রিকা মহাদেশের ইসলামী সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে অভিহিত করেছে।

এ শহরেই তিনি একটি বিশাল মসজিদ তৈরি করেন। তাঁর নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয় মসজিদে উকবা বিন নাফি। এই মসজিদ থেকেই আফ্রিকা মহাদেশে প্রথম আজান ধ্বনিত হয়।

আফ্রিকার ভয়ঙ্কর অরণ্যের হিংস্র জীব-জন্তু ও অধিবাসীরা উকবা ইবনে নাফু ঈমানী শক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে জঙ্গল খালি করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার ঘটনা আফ্রিকার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর বটে।

উকবা ইবনে নাফি ছিলেন অত্যন্ত খোদাপ্রেমিক এবং মোস্তাজাবুত দাওয়াত, তিনি দোয়া করলে তা কবুল হতো। ভীতিকর স্থানে তিনি অতি বিনয়ের সাথে এসব হিংস্র জীবজন্তু, কীট-পতঙ্গ দূর করে দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দো’আ করতেন, ‘আইয়্যুহাল হিয়াদা ওয়াস-সিবা! ইন্না আস্হাবু রাসূলুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইরহালুআল্লা, ফা ইন্না নাজেলুন। ওয়া মান-ওয়াজ নাহু বা’দা জালিকা কাতাল্লাহু।

অর্থাৎ এই অরণ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী হিংস্র হে জন্তুকূল, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সা. এর সাহাবা, তোমরা আমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাও। আমরা এখানে অবতরণ করবো। এ ঘোষণার পর যাকে এখানে আমরা পাবো তাকে হত্যা করবো।

হজরত উকবা ইবনে নাফির মর্মস্পর্শী ঘোষণা বিদ্যুৎ গতিতে সমগ্র জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সকল চতুষ্পদ জীব-জন্তু, কীট-পতঙ্গ, সাপ-অজগর প্রভৃতি তাদের অবস্থান কেন্দ্রগুলো খালি করতে থাকে। এবং সাপ-বিচ্চুসহ সকল বিষাক্ত জীব-কীট-পতঙ্গ মুহুর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়।

উকবা ইবনে নাফি গোটা মরক্কো জয় করে সাগর তীরের বার্লিয়ান নামক স্থানে পৌঁছে অত্যন্ত অনুতাপের সাথে বলেছিলেন-

‘ইয়ারাব্বি, লাওলা হাজাল বাহ্রু লামাশতু ফিল- বালাদি মোজাহেদান ফিসাবিলিকা’। অর্থাৎ হে রব, আমার সামনে যদি সাগর না থাকতো তাহলে আমি তোমার পথে তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য যুদ্ধ করতে করতে বিজয়ী বেশে এই দেশের প্রান্ত সীমায় উপনীত হয়ে যেতাম।

আটলান্টিক মহাসাগর প্রতিবন্ধক না হলে উকবা সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ মুসলিম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপও তার বিজয়ের আওতায় নিয়ে আসতেন।

৬৮৩ সালে বিসক্রার নিকটে বার্বা‌র খ্রিষ্টান রাজা কুসাইলার দ্বারা সেনাপতি উকবা ইবনে নাফি শহিদ হন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, ক্যামব্রিজ প্রেস।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ