ডা. ইসমাইল আযহার।।
করোনার ভ্যাক্সিন আজকাল বহুল প্রচলিত একটি বিষয়। এখন ভ্যাক্সিনের ধারনা পেতে হলে আগে এন্টিজেন ও এন্টিবডির একটা ধারণা লাগবে।
১) এন্টিজেন কাকে বলে?
এন্টিজেন হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুর দেহ কোষের কিছু প্রোটিন উপাদান, কিংবা এমন কোনো বস্তু যা শরীরের নিজস্ব গঠন থেকে আলাদা প্রকৃতির, কিংবা কোনো ফরেইন উপাদান, কিংবা শরীরের জন্য কোনো অপরিচিত বস্তু, যেমন কোনো টক্সিন, ক্যামিকেল, ড্রাগস ইত্যাদি, যা দেহে প্রবেশ করলে ইমিউন সিস্টেম প্ররোচিত হয়ে এন্টিবডি তৈরী হয় এবং ওই এন্টিবডি, অণুজীবের কিংবা এন্টিজেনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর কে মুক্ত রাখে।
ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া কিংবা ক্ষুদ্র অণুজীব গুলির দেহকোষের প্রোটিন উপাদান এন্টিজেন হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এগুলো শরীরে রোগ তৈরীতে ভূমিকা রাখে।
২) এন্টিবডি:
এন্টিবডি হচ্ছে এক প্রকার প্রোটিন, যা শ্বেতরক্ত কণিকার বি-লিম্পোসাইট থেকে তথা রক্তের প্লাজমা সেল থেকে উৎপন্ন হয়। যখন শরীরের অভ্যন্তরে কোনো এন্টিজেন প্রবেশ করে, উদাহরণস্বরূপঃ ভাইরাস, কিংবা ব্যাক্টেরিয়া কিংবা ফানজাই, তখন তাকে নিউট্রালাইজড করার জন্য শ্বেত রক্তকণিকার বি-লিম্পোসাইট থেকে এক প্রকার প্রোটিন উপাদান তৈরি হয়, যা ওই ভাইরাস কিংবা ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়, এবং ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়, যাকে এন্টিবডি বলে। এইভাবে এন্টিজেনের প্রভাবে শরীরের অভ্যন্তরে এন্টিবডি তৈরী হবার প্রক্রিয়াকে ইমিউন রেসপন্স বলে।
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরেকটু সহজ হবে। মনে করুন, ডেঙ্গু একটা ভাইরাস (অনুজীব)। এই ভাইরাস যখন মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে, তখন এই ভাইরাস এর এন্টিজেন সমূহের প্রভাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক প্রকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য উত্তেজিত হয় এবং এই ডেঙ্গু ভাইরাস কে ধ্বংস করার জন্য এক প্রকার এন্টিবডি তৈরী করে, যা ডেঙ্গু ভাইরাস কে ধ্বংস করে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।
এখন ডেঙ্গু ভাইরাস কে যদি আমরা শরীরের শত্রু হিসাবে বিবেচনা করি, তাহলে এন্টিবডি হচ্ছে শরীরের অভ্যন্তরীন এক প্রকার সেনাবাহিনী, যেই সেনাবাহিনীর কাজ হচ্ছে শত্রুকে ধ্বংস করে শরীরকে সুরক্ষা দেওয়া। এই সেনাবাহিনী তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যে এক প্রকার মেমোরী তৈরি করে। যা ভবিষ্যতে কখনো সেই একই প্রজাতির ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে সেনাবাহিনী বা মেমরি সেল তাদেরকে চিনে ফেলে, এবং সাথে সাথে তাদের কে ধ্বংস করে দেয়।
প্রতিটি অণুজীবের এন্টিজেন সমূহ সুনির্দিষ্ট, এক অণুজীবের এন্টিজেনের সাথে অন্য অণুজীবের এন্টিজেনের কোনো মিল নেই। প্রতিটি এন্টিজেনের বিরুদ্ধে কার্যকর এন্টিবডির কাজও