আওয়ার ইসলাম: কিট উদ্ভাবনের পর যেসব পদ্ধতি মেনে সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তার কিছুই মানেনি। তাই তাদের কিট গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।
গতকাল সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। কোন প্রকার গাইডলাইন না মানায় কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তারা যাননি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়। তিনি বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত কোন দেশকেই রেপিড কিটের অনুমোদন দেয়নি বলেও জানান মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখন পর্যন্ত অনুমোদন না দেয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আবিষ্কৃত র্যাপিড কিটস পরীক্ষার আপাতত কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেল আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটস’ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান এ কথা জানান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গতকালের (রোববার) দেয়া বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেন অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ কিটস পরীক্ষার বিষয়াদি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসনকে যেভাবে দোষারোপ করেছেন, তা মিথ্যা ও উদ্যেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে গণস্বাস্থ্য তাদের দাবির ক্ষেত্রে কোনোরকম প্রটোকল মেইনটেইন করেনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না রেখেই ঢালাওভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দোষারোপ করেছেন।’
গণস্বাস্থ্যের র্যাপিড কিটস পরীক্ষার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের এ আহ্বায়ক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশকেই র্যাপিড কিটস পরীক্ষার অনুমোদন দেয়নি। এক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্যের র্যাপিড কিটস পরীক্ষারও আপাতত কোনো সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অনুমোদিত ও নির্দেশিত হলে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণে সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাবিবুর রহমান খান জানান, করোনা প্রতিরোধে খুব দ্রুতই আরও ২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে।
-এটি