বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উপেক্ষিত ইসলাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ ইমরান।।

মুক্তিযুদ্ধ। পাক-হানাদারের বিরুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৯৭১ বাংলার মুক্তি ও স্বাধীনতার বছর। সময়টা ছিল পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ও আন্দোলনের। দীর্ঘ নয় মাস শেষে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্তি পায়। বাঙালি জাতির বুকের আওয়াজ, 'পরাধীনতার শৃংখল থেকে যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যু বরণ করা অনেক উত্তম'।

১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে ‘ইসলাম’ ব্যবহৃত হয়েছে দ্বিপক্ষীয়ভাবে। পাকিস্তানের হানাদাররা ইসলামের নাম দিয়ে জায়েজ করেছে গণহত্যাকে। সেকুল্যাররা পাকিস্তানিদের ‘ইসলাম’ ব্যবহারকে কূটনীতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধে ইসলামকে উপেক্ষিত করতে চেয়েছে। এ চেষ্টা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় সফল হতে দেয়নি এদেশের আপামর জনতা।

কারণ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বেতার কেন্দ্র মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ইসলাম ও ধর্মীয় চেতনার মাধ্যমে। এদেশের মানুষ ধর্মের প্রতি প্রাচীন যুগ থেকে সহনশীল। তাই ধর্মকে উপেক্ষা করে কোনো আন্দোলন সম্ভব নয় এদেশের মাটিতে। ৪৭ এর দেশভাগ, খেলাফতে আন্দোলন ও হিন্দু-মুসলিমের দাঙ্গা থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার পর এদেশের সেকুল্যারপন্থী বুদ্ধিজীবীরা দ্বিতীয়বার ইসলামকে উপেক্ষিত করার চেষ্টা শুরু করেন। দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন কৌশলে সরাসরি ইসলামকে উপেক্ষিত না করে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও হুজুরদের উপর কূটনৈতিক আক্রমণ করে নানারঙে। রাজাকার মানে দাড়ি টুপি গোছের লম্বা কোর্তা পরা হুজুর পরিচয়ের নির্মম মানুষগুলো।

সেক্যুলারপন্থীরা বহুত আগে ধরতে পেরেছে, ধর্মের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে যখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে শনাক্ত করা যাবে, তখন ধর্ম বা ইসলাম এমনিতেই উপেক্ষিত হবে জনমনে।

এজন্য নানান কৌশল অবলম্বন করে তারা। সাহিত্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জাতিভেদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বাধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রয়াস হরহামেশাই। জাতি ও বাঙ্গালী পরিচয়ের নতুন নতুন প্রশ্ন উদ্ভাবন করে। কখনো বাঙালির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে, কখনো মুসলিম পরিচয় নিয়ে, এদেশের মুসলমান বাঙালি পরিচয়ে চলবে নাকি শুধু মুসলমান পরিচয়ে এজাতীয় প্রশ্নের ছাড়াছাড়ি সর্বত্র এখন। এ ধরণের প্রশ্নের অন্দরে তাদের উদ্দেশ্য হলো, স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে ধর্মকে মুছে দেয়ার কূটকৌশল। এদেশকে হিন্দুত্ব কালচারে সংজ্ঞাজাত করার হীনপ্রচেষ্টা।

আধুনিক কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্রদর্শন পৃথিবীতে শুধু ভূখন্ডকেন্দ্রিক দেশীয় পরিচয়ের বিভাজন তৈরি করেনি। বরং পৃথিবীর প্রতিটি সত্ত্বাকে চূর্à¦