আওয়ার ইসলাম রজব মাস। কুরআনে বর্ণিত সম্মানিত মাসগুলোর মধ্যে একটি মাস। আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য গুণের একটি হল বান্দার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করা। গুনাহগার বান্দাকে বিভিন্ন উসিলায় ক্ষমা করেন। মহান আল্লাহ তায়া’লা তার সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করে বিভিন্ন ক্ষণে বিশেষ ফজিলত ও বরকত রেখেছেন; আর সেই সব ক্ষণগুলোতে ইবাদতে অফুরন্ত প্রতিদান দেয়ার ঘোষণা করেছেন। এ কারণে, অন্যান্য মাসের মতই রজব মাসেও বান্দাদেরকে ইবাদাতে উৎসাহদদীপ্ত তৎপরতা দেখা যায়।
আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে পুরো আরবে বছরের মধ্যে চার মাস যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত। মহিমান্বিত রজব মাসে আরবে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। হজরত রাসূল সা. সঙ্গী-সাথিদের রজব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এ মাসে মুহাম্মাদ সা. মেরাজে গমন করেন। রজব মাসের একটি বিশেষ আমল হচ্ছে শবে মেরাজ। মেরাজ আরবী শব্দ যার বংলা অর্থ ঊর্ধ্বে গমন করা। মেরাজের ঘটনা সম্পর্কে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে, “পবিত্র ঐ মহান সত্ত্বা যিনি রাত্রি বেলায় তাঁর বান্দাকে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার আশপাশকে আমি বরকতময় করেছি। এটা এজন্য যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাতে পারি।” (সূরা বনী ইসরাইল আয়াত নং-১)
রজব মাসের করণীয়
আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত চারটি মাস, বিশেষ মর্যাদা এবং প্রভূত সম্মানে ভূষিত। যার অংশীদার রজবও, যেহেতু রজব তার একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ (الأنعام:2)
“হে মু’মিনগণ,আল্লাহর নিদর্শনসমূহ (নিষিদ্ধ বস্তু) হালাল মনে করো না এবং সম্মানিত মাসসমূহকে।” (মায়েদা-২)
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার সংরক্ষিত, নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ-যেগুলোকে তিনি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অনাধিকার চর্চা হতে বারণ করেছেন, সেগুলোকে তোমরা হালাল মনে কর না। যার ভেতর ভ্রান্ত বিশ্বাস, নিষিদ্ধ-কাজ, উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ. (التوبة:36) “এতে তোমরা নিজেদের উপর অত্যাচার (ক্ষতিসাধন) করো না।” (সূরা তাওবা৩৬)
অর্থাৎ, সম্মানিত মাস গুলোতে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা এ মাস গুলোকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন, তাই এর সম্মান যথাযথ রক্ষা করা। এবং এর মর্যাদা ও পবিত্রতার লক্ষ্য করত: এতে কোন গুনাহে লিপ্ত না হওয়া। তদুপরি জমানার পবিত্রতার কারণে, অপরাধ হয় জঘন্য ও মারাত্মক। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা উল্লিখিত আয়াতের মাধ্যমে নিজেদের উপর জুলুম না করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় স্বীয় নফ্সের উপর জুলুম করা বা অন্য কোন গুনাহে জড়িত হওয়া, সব মাসেই হারাম ও নিষিদ্ধ।
রজব মাসকে কেন্দ্র করে কতিপয় নতুন আবিষ্কৃত আমল, বিদআ‘ত:
১. রজব মাসের রোজা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া