বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ছারছীনা মাদরাসার প্রথম শাইখুল হাদিস ছিলেন দেওবন্দের ছাত্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান

বাংলার বুকে ইলমে হাদীসের প্রচার-প্রসারে যারা নিরলসভাবে খেদমত করেছেন, আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী রহ. তাদের অন্যতম। তিনি এশিয়ার রাশিয়া ও চীনের সীমান্তবর্তী পূর্ব তুর্কিস্তানের খোতান প্রদেশের ইলচী জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯১৪ অথবা ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। চীন স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ঐ এলাকাটি সীংগাঙ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তার পিতার নাম শায়েখ মুহাম্মাদ সিদ্দীক রহ. এবং দাদার নাম শায়েখ মুহাম্মাদ রহ.। তারা দুজন ছিলেন তৎকালীন সময়ে খোতান শহরের শ্রেষ্ঠ আলেম। তার মামা শায়েখ আহমদ রহ.ও ছিলেন তৎকালীন সময়ে মুসলিম নেতা। তিনি ঐ অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি তার পিতাকে হারিয়ে এতিম হন। এর এক বছর পর তার মাতৃবিয়োগ ঘটে। পিতা-মাতাহীন বালক নিয়াম মাখদুম তার চাচা শায়েখ মুহাম্মাদ কাসেমের তত্ত্বাবধানে বড় হন। তিনি তাকে ভর্তি করান স্থানীয় খালাক মাদরাসায়। সেখানে তিনি আরবী ভাষা, নাহু ও সরফ অধ্যয়ন করেন এবং শরহে জামী পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করেন।

এরপর তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য খোতান থেকে প্রায় তের মাইল দূরে, বর্তমান পাকিস্তানের নিকটবর্তী শহর ঐতিহ্যবাহী কাশগরে চলে যান। সেখানকার এক মাদরাসায় তিনি ভর্তি হন এবং সাত বছর অধ্যয়ন করেন। উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা তথা হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, ইলমে মানতিক, ফালসাফা ও অন্যান্য ইলম অর্জন করেন।

কাশগর শহরে যখন চীনের কমিউনিস্ট বাহিনীর আগ্রাসন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন তিনি ইসলাম ও দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার্থে কমিউনিস্ট বিরোধী আন্দোলনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কমিউনিস্টদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে টিকতে না পেরে তিনি পাহাড় ঘেরা বরফবেষ্টিত বন্ধুর পথে নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে কাশ্মীর হয়ে সাহারানপুরে হিজরত করেন। এটি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের কথা।

সাহারানপুরে অবস্থানকালে তিনি ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের সন্ধান পান এবং সেখানে ভর্তি হন। এ মাদরাসায় তিনি একাধারে দশ বছর অধ্যয়ন করেন। এখান থেকে তিনি দাওরায়ে হাদীস ও তাফসীরের সনদ লাভ করেন। তৎকালীন সময় দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ছিলেন মাওলানা কারী তৈয়্যব রহ. এবং শায়খুল হাদীস ছিলেন শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.।

প্রখর মেধা ও আশ্চর্য স্মৃতিশক্তির কারণে তিনি প্রত্যেক শ্রেণিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং ‘মুমতায’ ছাত্র হিসেবে সকলের নজর কাড়েন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তার অধ্যয়ন শেষ হয়। দারুল উলুম দেওবন্দের তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণ হলেন শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ., শ