বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ইতিহাসে সিপাহী বিদ্রোহ, ১৩ হাজার আলেমের ফাঁসি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম: ইংরেজ বেনিয়াদের ভারত উপমহাদেশ থেকে তাড়ানোকে কেন্দ্র করে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যে তুমুল সংগ্রাম ফেনিয়ে ওঠে তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে অন্তত ১৩ হাজার আলেমের ফাঁসির মধ্য দিয়ে।

মোঘলদের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর পরিণত হন রাজনীতির শোপিসে । শাহ ওলীউল্লাহ ও সাইয়েদ আহম শহিদ (রহ)-এর ত্যাগ-তিতিক্ষার যে ইতিহাস এর পূর্বে রচিত হয়েছে, যদিও সেটাই হলো এই ক্ষেত্রে ইংরেজ মূল ভীতির কারণ । কিন্তু ১৮৫৭ সাতান্ন সিপাহি বিদ্রোহের পর একদিকে আলেমগণ এবং অন্যদিকে ইংরেজ উভয়েই খোলাখুলি শত্রুতায় জড়িয়ে পড়েন ।

সিপাহী বিদ্রোহোর সূচনা যেভাবে

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ইংরেজরা সিপাহী বিদ্রোহ বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে। যদিও এটা কেবল সিপাহী বিদ্রোহ ছিলো না, সর্বস্তরের জনগণেরও বিদ্রোহ ছিলো । ভারতে ইংরেজের শাসনের বিরুদ্ধে ধূমায়িত আক্রোশের এটাই ছিলো প্রথম বিস্ফোরণ।

এ বিদ্রোহে মুসলমানের সাথে হিন্দু সমাজের বিরাট অংশও যোগ দেয়। কেবল বাংলার হিন্দুরাই একমাত্র ইংরেজের পক্ষালম্বন করে বিশেষ কৃপা পাবার আশায় । সিপাহীদের বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় কারণ ছিলো কার্তুজে শুয়োরের চর্বি ব্যবহার সম্পর্কিত গুজব।

কেননা, কার্তুজ তাদের ছিঁড়তে হতো দাঁত দিয়ে । ফলে মুসলমান-হিন্দু সকল সিপাহী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বাভাবিকভাবে । ১৮৫৭ সালের ২ জানুয়ারী দমদম থেকে শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারীতে কোলকাতা থেকে ১৬ মাইল দূরে বারাকপুর সেনানিবাসে মংগল পাণ্ডে নামক এক হিন্দু সৈনিক এক ইংরেজ সার্জেন্ট মেজরের ওপর গুলী চালিয়ে এই বিদ্রোহের উদ্বোধন করে।

তারপর মিরাঠে অবস্থিত সবচে’ বড় সেনানিবাসে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। বিদ্রোহী সৈন্যরা দিল্লীর দিকে মার্চ করতে শুরু করে, যেখানে ছিলেন ক্ষমতাহীন শেষ মোঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর। (উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাযী, খ. ৪, পৃ. ২৫০)

ভারতের থানভবনে আলেমদের মোর্চা

সেনা বিদ্রোহের কারণে চতুর্দিকে আইন-শৃংখলার চরম অবনতি দেখা দিলে এবং ইংরেজ শাসকরাও ভীতি ও আতংকের মধ্যে অবস্থান করতে তখন সাহারানপুরের ইংরেজ কালেকটর মি. স্প্যাংকির একটি চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ নেন। বিনা দোষে তিনি থানাভবনের প্রভাবশালী রইসের ছোট ভাই কাজী আবদুর রহীম ও তার দলবলকে সাজানো মামলায় ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ঘোষণা করে তড়িঘড়ি ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলায়। এ ঘটনায় থানাভবন, নান্নুতা ও চারদিকের থানাগুলোর জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

তাছাড়া এসব এলাকার সকল প্রতিষ্ঠিত ও মশহুর আলেমের মুরব্বী হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কীর বাসস্থানও ছিল এখানে। শহীদ কাজী আবদুর রহীমের বড় ভাই কাজী ইনায়েত আলী খান এসময় জনগণের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচà