বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


বাংলা নববর্ষ, মনুবাদ ও সাংস্কৃতিক লড়াই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুসা আল হাফিজ ।। কবি ও প্রাবন্ধিক

কয়েকটি কথা বলবো, এ রচনার ভাবনাসূত্র বুঝার জন্য। প্রথম কথাটি হলো বাংলাসনের জন্মসূত্র। ইতিহাস বলে, বাংলা সন হিজরী সনেরই বিবর্তিত রুপ। সবাই জানেন হিজরী সন চান্দ্রবর্ষ। সৌরবর্ষের চেয়ে চান্দ্রবর্ষ ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিনে আর চান্দ্র বর্ষ হয় ৩৫৪ দিনে।

চান্দ্র বর্ষে মৌসুম ঠিক থাকে না। অথচ চাষাবাদ, খাজনা আদায় সহ অনেক কাজ মৌসুমের উপর নির্ভরশীল।মুসলিম জাহানজুড়ে চান্দ্রবর্ষের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম চললেও উপমহাদেশে ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র মৌসুমগত সমস্যা সামনে নিয়ে আসে। ফলে প্রয়োজন পড়ে সৌরবর্ষের।

সম্রাট আকবর একারণে হিজরী চান্দ্রবৎসরকে সৌরবর্ষে রুপান্তরের আদেশ দেন। আদেশ পালন করেন তার দরবারের বিজ্ঞানী ফতহুল্লাহ সিরাজী।

৯৯২ হিজরীতে হিজরী চান্দ্রবর্ষ হিজরী সৌরবর্ষরুপে ভারত উপমহাদেশে চালু হলো। তবে আকবর যেহেতু এ ঘটনার ২৯ বছর আগে সিংহাসনে বসেন, অতএব বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হলো ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে। এর আগে বাংলায় প্রচলিত ছিলো শকবর্ষ। এর পয়লা মাস ছিলো চৈত্র।কিন্তু ৯৬৩ হিজরির মুহাররম মাসে যেহেতু বাংলা মাস ছিলো বৈশাখ, তাই নতুন সনের পয়লা মাস বৈশাখকেই ধরা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন যেটা, সেটা হলো এখন ১৪২৩ বাংলা হয় কীভাবে? হলো, কারণ রাসূল সা, এর হিজরত থেকেই এ পঞ্জিকার শুরু। ১৪২৩ এর মানে হলো হুজুর সা, এর হিজরতের ১৪২৩ বছর। সৌর বছর চান্দ্র বছরের চেয়ে ১১/১২ দিন বেশি।প্রতি ৩০ বছরে চান্দ্র বছর এক বছর বেড়ে যায়। এজন্য ১৪৩৭ হিজরি সাল মোতাবেক বাংলা ১৪২৩ হয়েছে। এর মানে বাংলাসনের গোটা ঐতিহ্য হচ্ছে মুসলমানী ঐতিহ্য।

দুই.

এ দেশের প্রাচীন মানুষেরা ছিলো দ্রাবিড়। দ্রাবিড় মানে নূহ আ, এর বড় ছেলে হামের বংশধর। দ্রাবিড়দের উপর আগ্রাসন চালায় বহিরাগত আর্যরা। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে। তারা ভারতে চালু করে আর্যধর্ম, যা পরে হিন্দুধর্মের রুপ নেয়।আর্যরা সর্বদাই অনার্য ধর্ম ও সভ্যতাকে তাচ্ছিল্য করেছে। তারা ঘৃণা করতো বাংলা ভাষা ও বাঙালীকে। বাংলা ভাষাকে বলতো ইতরদের ভাষা।

বেদ ও পুরাণে বাংলা ভাষাকে দাসের ও পক্ষীর ভাষা বলা হয়েছে, বাঙালীকে বলা হয়েছে দস্যু। তারা বাঙালী জাতিসত্তা ও ভাষাকে খুন করার সকল প্রয়াস অব্যাহত রাখে। তারা লক্ষ্য হাসিল করেই ফেলতো। কিন্তু বাঁধা দিলো মুসলিম বিজয়। বিজয়ী মুসলিমরা বাঙালী ও বাংলা ভাষাকে দিলেন নবপ্রতিষ্ঠা।

নবউদ্যমে দাঁড়িয়ে গেলো এ মাটির সাংস্কৃতিক সত্তা। বাংলার প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয়ে নববিকাশে উজ্জীবিত এ সংস্কৃতিকেই বলা হতো বাংলা সংস্কৃতি। আর্যরা এ বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো বাধ্য হয়েই।

কিন্তু ১৭৫৭ সালের পরে তাà¦