বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


শতাব্দীর চিঠি: ইতিহাসে ধারাবদলের মন্ত্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফজলে এলাহী মামুন

শতাব্দীর চিঠি নামক রচনাটির কয়েক পর্ব পড়েছিলাম ফেসবুকে। সম্ভবত ২০১৭ সালে। তখনই একটি আলাদা মাধুর্য টপকাচ্ছিলো লেখাটিতে। কবি, দার্শনিক মুসা আল হফিজের এই রচনা আমার চোখে ছিলো বিশেষ কিছু । তাকে বার বার তাড়া দিয়েছি, অন্যসব কাজের ভিড়ে এই রচনা যেন অবহেলিত না হয়। একে পূর্ণতা দিয়ে বই আকারে যেন নিয়ে আসা হয়।

বিলম্ব হচ্ছিলো। কিন্তু অবশেষে তা বই আকারে এসেছে। এটা খুবই আনন্দের বিষয়। কারণ আমার কাছে, এ বই অন্য দশটি বইয়ের মতো নিছক কোনো বই নয়। লেখক স্বয়ং একই কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘এ নিছক কোনো গ্রন্থ নয়। বাংলাদেশের যে অতীত হারিয়ে গেছে, যে অতীত হারানোর ফলে আমরা নিজেদের চিনতে পারি না, যে অতীতকে বুঝিনি বলে আজকের সঙ্কটকেও বুঝতে পারি না, এ চিঠি সে অতীতের দাস্তান।’

অতএব আমরা বইটির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পারি না। সৃষ্টিশীল লেখকদের প্রতিটি বই গুরুত্বের দাবি রাখে। তবে কিছু বই আলাদা আবেদন নিয়ে আমাদের চেতনায় নাড়া দেয়। কারণ সে বইগুলো আমাদের সমৃদ্ধ করে তুলনামূলকভাবে বেশি। মুসা আল হাফিজের বই আমাদের জন্য সমৃদ্ধির বার্তা বহন করে। তার রচনায় আমাদের হারানো আত্মপরিচয় হিরের টুকরোর মতো জ্বলজ্বল করতে থাকে। এ ধারার যেসব রচনা তিনি আমোদের উপহার দিয়েছেন, আমার মতে, শতাব্দীর চিঠি এর মধ্যে সেরা। একে তিনি ইতিহাস বর্ণনার জন্য লিখেননি। ইতিহাস বদলানোর জন্য লিখেছেন।

এ কথা সত্য যে, ইতিহাস বদলানো যায় না। তাহলে একটি বই কীভাবে ইতিহাস বদলাবার কাজ করে? এ প্রশ্নে জবাব সম্ভবত, এভাবে দেয়া যায়, একটি জাতির ইতিহাস যখন পরাজয়ের ও অবনমনের পথে ধাবিত হয়, তখন কিছু লেখকের কলম গতিপরিবর্তনের জন্য সক্রিয় হয়। জাতীয় ইতিহাস থেকে তারা খুঁজে বের করেন চলমান সঙ্কটের ধারা ও চরিত্র। ইতিহাস থেকে তারা নিয়ে আসেন দলিলপত্র। তাদের হাতে তখন রচিত হয় কালজয়ী কিছু বই। এসব বইয়ে অতীতের উল্লেখ থাকলেও বর্তমানের সঙ্কট ও করণীয় ইত্যাদি সেখানে না বলেই বলে দেয়া হয়। সে সব ঐতিহাসিক রচনা পরাজয়ের ধারার বিপরিতে বিজয়ের ধারায় জাতিকে পথপ্রদর্শন করে। এ বইগুলো আসলে ইতিহাস বর্ণনার বই নয়, ইতিহাস বদলানোর বই।

মুসা আল হাফিজ বাংলাদেশে মুসলিম জাতিসত্তার যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর স্বরূপ বুঝাতে চান, এক্সরে করতে চান। প্রেসক্রিপশন দিতে চান। এ জন্য তিনি এদেশের ইতিহাস ১৪১০-১০১৪ ও এর সমসাময়িক ঘটনাচক্রকে বেছে নিয়েছেন। যখন মুসলিম জাতিসত্তা ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছিলো এদেশে। এ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এতাই ছিলো, এর মোকাবেলা করতে না পারলে এ দেশে মুসলিমদের অস্তিত্ব আর থাকতো না।

সেই সংকট কেন এসেছিলো? কীভাবে এসেছিলো? কাদের মাধ্যমে এসেছিলো? সংকটের ধরণ ও প্রকৃতি কেমন ছিলো? সংকটের বহি:প্রকাশ ও ফলাফল কেমন ছিলো? ইত্যাদির বিবরà