বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


এক মানবদরদী রানী জুবাইদা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
আলেম, লেখক ও শিক্ষক

জুবাইদা ছিলেন যে কোনো ভালো কাজে সর্বাধিক আগ্রহী এবং যে কোনো নেক ও পুণ্যের কাজে সকলের চেয়ে অগ্রগামী। খলিফা হারুনুর রশিদের এই বিদুষী স্ত্রী কেবল মুসলিম জাহানের সম্রাজ্ঞীই নন, বিশ্বনবী সা.-এর রক্তের ধারক।

সম্পর্কে তাঁর চাচাতো বোন এবং খলিফা আল মানসুরের নাতি। সমসাময়িক দুনিয়ায় তাঁর মতো বিদ্বান, সুন্দরী, ধর্মপরায়ণা, পরোপকারী এবং বুদ্ধিমতী নারী দ্বিতীয়জন ছিলেন না।

কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস, ইতিহাস, ভূগোল, জ্যামিতি এবং ধর্মতত্ত সম্পর্কে সম্রাজ্ঞীর পাণ্ডিত্যের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র- এশিয়া থেকে ইউরোপ, চীন থেকে ভারত কিংবা আফ্রিকা থেকে রাশিয়া অবধি।

হারুনুর রশিদের অস্বীকৃতির পরে যিনি হারামে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছিলেন এবং তার হাত দিয়ে আল্লাহ তাআলা এ ধরনের অনেক শুভকার্য সম্পাদন করিয়েছিলেন।

দেশের সচেতন নাগরিকের কাছে নাহর-এ-জুবাইদা একটি প্রসিদ্ধ বাক্য। একে জুবাইদার নাহরও বলা হয়ে থাকে। নাহর অর্থ-সরু, স্রোতস্বিনী, জলধারা, খাল, নালা ইত্যাদি।

ইতোপূর্বেকার আলোচনায় আপনারা জানতে পেরেছেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নগরী বাগদাদ ছিলো আব্বাসীয় খলিফাদের রাজধানী। তার মধ্যে জজিরাতুল আরব তথা বর্তমান সৌদি আরবও ছিল।

মরুভূমিপ্রবণ পবিত্র মক্কায় জমজমের পানি বাদে তেমন পানির উৎস ছিলো না। ফলে হাজীরা সেখানে গমন করলে সেকালে পানির অভাবে কষ্ট পেত। কিংবদন্তি আছে রানী জুবাইদা একরাত্রে স্বপ্ন দেখলেন অসংখ্য পুরুষ তাকে ভোগ করছে। ঘুম ভাঙ্গার পর তিনি খুব বিব্রতকর বোধ করছিলেন।

এক বিচক্ষণ দাসীকে তার স্বপ্ন বলে শিখিয়ে দিয়ে বাগদাদের বিখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দিলেন স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য। দাসী থেকে স্বপ্নের কথা শুনে ধর্মীয় ব্যক্তি বললো- এটি তোমার স্বপ্ন হতে পারে না। স্বপ্ন কার তুমি আগে খুলে বলো, তারপর আমি ব্যাখ্যা দেবো।

ফলে দাসী রানী জুবাইদার কাছে গিয়ে তা বললে রানী এটা তার স্বপ্ন সত্য বলে দেয়ার জন্য বলেন। দাসীর কথায় ধর্মীয় ব্যক্তি ব্যাখ্যায় বলেন, রানী জুবাইদা এমন কাজ করবেন যাতে অগণিত মানুষ উপকৃত হবেন।

১৯৩ হিজরিতে খলিফা হারুনুর রশিদের সময়ে পানির অভাব এতই তীব্র হয়েছিলো যে, এক বালতি পানি ২০ দিরহামে বিক্রি করা হতো। খলিফা হারুনুর রশিদ কর্তৃক পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনাও হাজীগণকে পানির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারল না।

১৯৩ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর পর রানী জুবাইদা হজ্বব্রত পালনে গেলেন। পবিত্র মক্কায় পানির সমস্যা দেখে তাকে এতই ব্যথিত করেছিল যে পানির সমস্যা চির অবসানের জন্য একটি খাল খননের তাৎক্ষণিক সিদ