মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান
আলেম, গবেষক
কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতির বিষয়টি এবার আইনি বৈধতা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (১৩ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্ট্যাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ শীর্ষক আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গত বছরের ১১ এপ্রিল গণভবনের বাংলাদেশ শীর্ষ আলেমদের সামনে কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে। কিন্তু আলেমরা দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিরেন যেন আইনটি মন্ত্রিসভা ও সংসদে উত্থাপন করে পাশ হয়।
জানা যায়, প্রজ্ঞাপন জারির পর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) উচ্চপর্যায়ের আলেমদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক কর এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে। ঘোষণার দেড় বছর পর আজ মন্ত্রিসভায় আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হলো এ আইন।
আইনটির মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সাহিত্য- এ দুই বিষয়ে মাস্টার্সের মর্যাদা পাবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কওমি মাদরাসার ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে মূল ধারায় আনতে এ আইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মাদরাসা থেকে আগে যেসব সনদ দেয়া হয়েছে তা এই আইনের আওতায় গৃহিত হবে বলেও জানান তিনি। (ourislam24.com)
সন্দেহ নেই যে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে এটি একটি ইতিবাচক সংবাদ, যা দীর্ঘ দিনের ফিকির ও মোজাহাদার মাধ্যমে অর্জিত হল এবং আইনি বাস্তবায়নে অনুমদিত হল। যে কোন নতুন পরিস্থিতি, উদ্যোগ, পরিকল্পনা একদিকে যেমন আশা ও সম্ভাবনা দ্বারা ঘিরা থাকে, ঠিক তেমনি তার বিপরীতে তাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনেই দ্বিধা, দুঃশ্চিন্তা ও আতংক বিরাজ করে।
কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির বিষয়ের সরকারের আজকের সিদ্ধান্ত এই প্রবণতার বাইরের কিছু নয়, যার প্রমাণ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই পর্যন্ত যতগুলো মতামত ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে তার সব কয়টিতেই এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া অনুভব করা যায়।
অনেকে অনেকভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন করছেন ও করবেন। à