বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর জন্য মহানবীর (সা.) অনুশোচনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর
কবি ও কলামিস্ট

মক্কা বিজয় হয়েছে। রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। মক্কার আশপাশে আরও কিছু বেদুইন গোত্র আছে, তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্য কয়েকজন সাহাবিকে ছোট ছোট সৈন্যদল দিয়ে পাঠালেন। কোনো হাঙ্গামা নয়, শুধু বলা হবে-মক্কা এখন ইসলামের করতলে। তোমরাও ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হও।

একটি সৈন্যদলের নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। কিছুদিন আগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন। এখন তিনি ইসলামের সেনানী হিসেবে পরিচিত।

খালিদ রা. গেলেন মক্কার পার্শ্ববর্তী বনু জুজায়মা গোত্রের কাছে। তাকে দেখেই জুজায়মা গোত্রের লোকজন ভয় পেয়ে গেল। কেননা এর আগে খালিদকে তারা দেখে এসেছে কেবল রণাঙ্গনে যুদ্ধ করতে, শান্তির বাণী নিয়ে তিনি খুব কমই আসতেন। তাই তাকে দেখে জুজায়মা গোত্রের অনেকেই অস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়ে গেল। খালিদ রা. তাদের অভয় দিলেন।

কিন্তু তার অভয়বাণীতে কাজ হল না, কিছু লোক ঠিকই তেড়ে এসে আক্রমণ করে মুসলিমদের। ফলশ্রুতিতে ভুল বোঝাবুঝির কারণে জুজায়মার কয়েক ব্যক্তি নিহত হয় এবং হত্যাচেষ্টার দায়ে বন্দী করা হয় কয়েকজনকে।

দুই
জুজায়মা গোত্রের যেসব ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় তাদের মধ্যে সুদর্শন এক যুবকও আছে। গোত্রের সামনে অন্য অনেকের সঙ্গে তাকেও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। মুসলিমদের হত্যাচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত সে।

যুবকটির হাত পিছমোড়া করে ঘাড়ের পেছনে নিয়ে বাঁধা। কোমর ও পা-ও রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা, নড়াচড়ার শক্তি নেই। গোত্রের ডেরার আরেক পাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নারীরা। তাদের মধ্যে রয়েছে বয়স্ক, শিশু এবং যুবতীরাও। সকলেই সন্ত্রস্ত।

আবু হাদরাদ আসলামি রাদি. এ অভিযানে খালিদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি পাহারা দিচ্ছিলেন জুজায়মা গোত্রের বন্দীদের। একসময় বন্দীদের মধ্য থেকে সেই সুদর্শন যুবকটি হাদরাদকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘হে নওজোয়ান, আমার কথা কি একটু শুনবে?’

হাদরাদ আসলামি বললেন, ‘বলো, কী চাই তোমার?’

যুবকটির গলা শুকিয়ে গেছে। একবার ঢোক গিলে গলা ভেজাবার চেষ্টা করে বলল, ‘তুমি আমার রশি ধরে আমাকে একটু ওই নারীদের কাছে নিয়ে যেতে পারবে?

ওখানকার কোনো একজন নারীর কাছে আমার কিছু বলবার আছে। কথাগুলো বলা শেষ হলেই তুমি আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো। তারপর আমার সঙ্গে তোমাদের যা ইচ্ছা হয় তাই করো। আমার এ অনুরোধটুকু রাখবে?’

হাদরাদ আসলামি প্রশ্রয়ের হাসি হেসে বললেন, ‘এ আর এমন কী কাজ! এ তো সামান্য অনুরোধ; চলো, তোমাকে নিয়ে যাই ওখানে।’

হাদরাদ আসলামি যুবকের কোমরের রশি ধরে তাকে নারীদের সামনে নিয়ে গেলেন। সেà