বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

হোসেন মাহমুদের উপন্যাস : সমর্পণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সারাদিন রোদ ঢেলেছে সূর্য। এখন শেষ বিকেলে ক্লান্ত হয়ে ছুঁই ছুঁই করছে পশ্চিমের পাহাড় চূড়া। আরেকটু পরই সূর্য পাহাড়ের আড়ালে চলে যাবে। তারপরই আঁধারের ছায়া নামবে পূবের দিগন্তরেখায়। হামাগুড়ি দিতে দিতে সে ছায়া দ্রুত এগিয়ে আসতে থাকবে। একসময় গোটা চরাচর ঢাকা পড়ে যাবে আঁধারের কালো পর্দায়। তার সাথে ওয়াদিউল কুরাও। রাত মানে অন্ধকার, রাত মানে শান্তি ও গভীর ঘুম।

ইহুদি বনি আসার গোত্রের বিরাট এ পল্লিটি গড়ে উঠেছে আল-কাব পাহাড়ের পাদদেশে। একদিকে বেশ উঁচু পাহাড়, আরেকদিকে মরুভূমি। সারা জনপদে অনেক খেজুর গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পাহাড়ের গা থেকে নেমে আসা একটি সবুজ রেখা হঠাৎ করেই সীমাহীন মরুভূমির কিনারে এসে থমকে গেছে।

সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তের এ সময়টিতে ওয়াদিউল কুরা পল্লিবাসীদের প্রায় সকলেই খুব ব্যস্ত। আসন্ন রাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তারা। ইতোমধ্যেই ভেড়া আর ছাগলের পাল নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে রাখালেরা। পল্লির পথে ঘন হয়ে উড়ছে ধূলি। ঘরে মেয়েরা গুছিয়ে রাখছে মশাল, প্রদীপ আর মোমবাতি। দিনের আলোর শেষ আভাটুকুও বিলীন হওয়ার পর ঘরে ঘরে আলো জ¦লে উঠতে শুরু করবে।

দাসী ঘরে প্রদীপ জ¦ালিয়ে দিয়ে গেছে। সে আলোতে রূপসজ্জা শেষ করে হরদিয়া। এমনিতেই খুব সুন্দরী সে। এ মুহূর্তে তাকে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা মনে হচ্ছে। মায়ের হিসাব মতো এ বছর বিশের ঘরে পা দিয়েছে সে। ওয়াদিউল কুরায় তার চেয়ে সুন্দরী কোনো কুমারী নেই। আশপাশের সব পল্লিতেও তার রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। বহু যুবক তাকে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। এ জন্য বেশ গর্ববোধ করে হরদিয়া। তাদের পল্লির মেয়েদের দু-একজন এ রূপের কারণে তাকে হিংসা করে, তাও জানে সে। তবে তা নিয়ে সে মোটেও মাথা ঘামায় না। তার মাথায় এখন অন্য চিন্তা। সে এমন এক চিন্তা যা হরদিয়াকে বেসামাল করে তুলেছে। কী করে কাজটি করা যায় তা ভেবে রেখেছে সে। চিন্তা হল যাকে দিয়ে তা করানো হবে তাকে নিয়ে। কারণ তার শর্ত। সে শর্ত দিয়েছে কাজটি সে করবে, তবে হরদিয়ার সাথে বিয়ে হওয়ার পরই করবে, তার আগে নয়।

হরদিয়া এখন যাবে বনি মোস্তালিকের কুয়ার পাড়ে। সেখানে তার দেখা হবে আইয়ুব ইবনে তালহার সাথে। ওয়াদিউল কুরার যুবকদের মধ্যে শক্তি ও সাহসে সে সবার সেরা। এমনকি আশপাশের পল্লিগুলোতেও তার সমকক্ষ বীর আর কেউ নেই। তবে এই কিছুদিন আগেও আইয়ুবের চেয়েও সেরা একজন বীর ছিল। তবে তার কথা মনে আনতে চায় না হরদিয়া। যাহোক, হরদিয়ার প্রেমে একেবারে হাবুডুবু খাচ্ছে আইয়ুব। কিন্তু হরদিয়া তাকে একটুও পছন্দ করে না। কিন্তু বীরযোদ্ধা হলে কি হবে, আইয়ুবের চরিত্র ভালো নয়। ইতোমধ্যেই দু-দুবার বিয়ে করেছে সে। কিন্তু কোনো স্ত্রীই তার ঘর করতে পারেনি। স্ত্রীদের কাউকেই নাকি তার পছন্দ হয়নি।