মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব
সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া রহমানিয়া
সওতুল হেরা, টঙ্গী, গাজীপুর
‘বাই বিল ওয়াফা’ শব্দটি আরবি। এর দ্বারা বিশেষ একটি লেনদেনকে বোঝানো হয়। ‘বাই বিল ওয়াফা’ বলা হয় কোনো জিনিস এ শর্তে বিক্রি করা যে, নির্ধারিত কিছুদিন পর ওই জিনিসটি বিক্রীত মূল্যে ফেরত দেবে। কারও টাকা প্রয়োজন হলে সে তার মালিকানাধীন কোনো সম্পদ বা পণ্য এ শর্তে বিক্রি করে দেয়, যে মূল্যে বিক্রি করেছে পরবর্তী সময় সেই মূল্য পরিশোধ করে দিলে ক্রেতা তার পণ্য ফেরত দেবে। এ শর্তটি আকদ চলাকালীন যুক্ত করা হতে পারে কিংবা আকদ সম্পন্ন করার আগেই যুক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন কারও ১ লাখ টাকার প্রয়োজন। কোনো সম্পদশালীর সঙ্গে সে এ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে যে, সে তার একটি মালিকানাধীন জমি ১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবে। শর্ত হলো, যখন বিক্রেতা ১ লাখ টাকা ফেরত দেবে, তখন ক্রেতা তার জমি ফেরত দেবে। এ ধরনের চুক্তিকে বাই বিল ওয়াফা বলা হয়। কারণ এখানে প্রত্যেকে অপরের প্রতি যে চুক্তি ছিল, তা পূরণ করে থাকে। (মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, ধারা-১১৮)। এর আরও কয়েকটি নাম রয়েছে। যেমন বাইউল আমানাহ, বাইউল মুআমালা, বাইউল ইতায়াহ।
এ বেচাকেনাটি হানাফি ওলামায়ে কেরামের কাছে সর্বপ্রথম হিজরির পঞ্চম শতাব্দী তথা ঈসায়ি একাদশ শতকে আত্মপ্রকাশ করে। মানুষের প্রয়োজনেই এ ধরনের একটি বেচাকেনার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। কারণ বিভিন্ন সময় মানুষের ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হয়। আবার ঋণদাতাও উপকার লাভ ছাড়া সাধারণত ঋণ দিতে প্রস্তুত থাকে না। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বন্ধকের মাধ্যমে ঋণ নেয়ার প্রচলন ছিল। অর্থাৎ কোনো কিছু বন্ধক রেখে ঋণ নেয়া হতো। এতে ঋণদাতা বন্ধকি দ্রব্য দ্বারা উপকৃত হতে পারত। আবার যখন ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা ফেরত দিত, তখন ঋণদাতাও বন্ধকি দ্রব্যটি ফেরত দিয়ে দিত। কিন্তু সমস্যা হলো, ঋণদাতার জন্য বন্ধকি বস্তু থেকে উপকার হাসিল করা জায়েজ নয়। ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা নেয়াও জায়েজ নয়। সুতরাং ঋণ দিয়ে কিছু মুনাফাও যাতে কামানো যায় আবার এ মুনাফা যাতে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধও না হয়Ñ এ দ্বিমুখী চিন্তা থেকে উৎপত্তি হয় বাই বিল ওয়াফা, যা সুদ গ্রহণের একটি সুস্পষ্ট কৌশল। বাই বিল ওয়াফাতে বন্ধক রেখে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে বন্ধকি বস্তুটি ফেরত দেয়ার শর্তে ঋণদাতার কাছে বিক্রি করে দেয়। এতে ঋণদাতা বন্ধকি বস্তু দিয়ে উপকৃত হতে পারে। সে তা ভোগ করতে পারে। অন্যদিকে ঋণগ্রহীতারও ঋণগ্রহণের হাজত পূর্ণ হয়। এরপর পূর্ব ওয়াদা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিয়ে তার পণ্য ফেরত নেয়ারও সুযোগ থাকে।
হানাফি ওলামায়ে কেরামের একটি অংশ এ বেচাকেনাকে প্রয়োজনের কারণে শর্তসাপেক্ষে জায়েজ বলেন। অন্য একটি শ্রেণী এ বেচাকেনাকে নাজায়েজ সাব্যস্ত করেছেন। কারণ এতে ক্রয়-বিক্রয়ে চুক্তির চাহিদাবিরোধী শর্ত পাওয়া যায়। চুক্তির চাহিদা হলো বস্তুটি বিক্রেতা থেকে ক্রেতার মালিকানায় সম্পূর্ণরূপে চলে আসা এবং ক্রেতার টাকা বিক্রেতার মালিকানায় পূর্ণরূপে চলে যাওয়া। কিন্তু নির্ধারিত কিছুদিন পর বিক্রীত বস্তুটি বিক্রেতাকে ফেরত দিতে হবে, এমন শর্ত করলে মালিকানা সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যায় না। তবে ক্রয়-বিক্রয়ের পর যদি বস্তুটি ফেরত নেয়া বা দেয়ার ওয়াদা করে, তাহলে ওই চুক্তিটি জায়েজ হবে এবং এ ওয়াদা পূর্ণ করা জরুà