বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


সিরিয়ায় কেনো এই উত্তপ্ত যুদ্ধ?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম

মনে হচ্ছিল সিরিয়ার সাত বছরের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে চার লাখের বেশি লোক নিহত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে, প্রশমিত হচ্ছে। ২০১৭ সাল যত কাছে আসছিল ততই ইসলামিক স্টেটের (আইএস) তথাকথিত খেলাফত ভেঙে চুরমার হচ্ছিল। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী এবং আসাদবিরোধীরা, যারা তাকে ক্ষমতাচ্যুতৎ করতে লড়াই করছিল, একে অপরকে হত্যা বন্ধ করল। আসাদের রক্ষক রাশিয়া বলল, তাদের মিশন ‘কার্যত শেষ’ হয়েছে এবং তাদের সেনাদের ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলো।

কিন্তু তারপর পরিস্থিতি আবার ঘুরে গেল। আসাদ বাহিনী আবার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করল। কুর্দি যোদ্ধাদের দমন করতে তুরস্ক তার সীমান্তে সেনা পাঠাল। আমেরিকা রাশিয়ানদের হত্যা করল। সেইসঙ্গে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল। কিন্তু কেন সিরিয়ার যুদ্ধ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল?

এর খানিকটা উত্তর রয়েছে আইএসের পতন এবং সীমান্ত নিয়ে যে টানাটানি তার মধ্যে। গত বছরের অক্টোবর মাসে আইএসের তথাকথিত খেলাফতের রাজধানী রাক্কার পতন ঘটে এসডিএফের (সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) কাছে। এসডিএফ কুর্দি নেতৃত্বাধীন একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী, আইএসের বিরুদ্ধে যাদের ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। আসাদ সরকার তখন এসডিএফ বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করল, অথচ তারা (আসাদ বাহিনী) আইএসের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে দৃঢ় সংকল্প।

ডিসেম্বর নাগাদ আইএস ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতো আর পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতো এসডিএফ। কিন্তু এক পর্যায়ে আসাদ বাহিনী আবার বিদ্রোহীদের ওপর আগের চেয়েও জোরালো হামলা শুরু করল। জানুয়ারি মাসে সিরিয়ান সেনারা ইদলিব প্রদেশকে দুই ভাগ করে ফেলল। অর্থাৎ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র এ প্রদেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিলো সেনারা। আর ফেব্রুয়ারি মাসে এসে আসাদের অনুগত সেনারা বিদ্রোহী অধ্যুষিত সেই অংশ অর্থাৎ পূর্ব ঘৌতায়, যা রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, বোমা হামলা শুরু করল, যা ছিল সিরিয়া যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা।

আইএসের পতন, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে যাদের স্বার্থ আছে এমন বিদেশি শক্তিগুলোর ফাটলকে আরো প্রসারিত করল। জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বললেন, আইএস যতক্ষণ পর্যন্ত হুমকি হিসেবে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে অবস্থান করবে। সিরিয়া যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধান পাওয়া গেছে বলেও জানালেন টিলারসন।

কিন্তু ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত তুরস্ককে, ন্যাটোর সদস্য, বিক্ষুব্ধ করল। কারণ আঙ্কারা আমেরিকার কুর্দি মিত্রদের, যেমন ওয়াইপিজি, সন্ত্রাসী হিসেবে à