বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


'মজুর আর মুসলমান' এই ছিল আফরাজুলের অপরাধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানে এক মধ্যবয়সী মুসলমান ব্যক্তিকে গত বুধবার নৃশংসভাবে হত্যার পর তার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

আরেকটি ভিডিওতে অভিযুক্ত হত্যাকারীকে হামলার স্বপক্ষে যুক্তি দিতে শোনা যায়, ''মুসলিমদের হাত থেকে হিন্দুদের সম্মান রক্ষার খাতিরে এই হামলা।''

বিবিসি হিন্দির সাংবাদিক দিলনাওয়াজ পাশা গিয়েছিলেন নিহত মুহম্মদ আফরাজুল রাজস্থানের যে বাড়িতে থাকতেন সেখানে। মাটির বড় উনুনটা কয়েকদিন ধরে নিভেই আছে। যে বড় পাত্রটায় রান্না হতো, সেটাও ঠাণ্ডা হয়ে গেছে আগেই। পাশেই পড়ে রয়েছে কোদাল, শাবল। ঠিক যেভাবে বুধবার সকালে রাখা ছিল, সেভাবেই রাখা।

ছোট্ট ঘুপচি ঘরের তক্তপোষে পড়ে ছিল হিসাবের খাতাটা - যিনি হিসাব কষছিলেন, তিনি যেভাবে ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেভাবেই খোলা পড়ে রয়েছে ওটা। একটা পুরনো বাক্সের ওপরে টিভি রয়েছে - সেটাও বন্ধ। পাশেই এক বস্তা আলু। অনেকের খাবার রান্না হতো এই ঘরেই।

ঘরের বাইরে একটা থালায় পড়ে ছিল দুটো মোটা মোটা রুটি। দেখে মনে হচ্ছিল কাজ থেকে ফিরে এসে কেউ রুটি খাবে, তারই অপেক্ষা...।

দরজার বাইরেই বেশ কয়েক জোড়া জুতো-চপ্পল পড়ে আছে, যেন কেউ তাড়াহুড়োয় চটি পড়তে ভুলে গেছে। এটাই মালদার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা নিহত আফরাজুলের বাসস্থান।

এখানেই বছর পঞ্চাশেকের আফরাজুল তার ভাগ্নে ইনামুল, জামাই মুশারফ শেখ ছাড়া গ্রামের আরও কয়েকজনের সঙ্গে থাকতেন - গত বুধবার পর্যন্ত। সেদিনই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আফরাজুলকে। আর গোটা হত্যাকাণ্ড ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

ঘটনার পরেই ওই ঘরের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েকজন তো পশ্চিমবঙ্গে চলে গেছেন আফরাজুলের লাশ নিয়ে। আর যারা রয়ে গেছেন রাজসমুন্দে, তারাও অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তাদের আর সাহস হচ্ছে না- এই ঘরে ফিরে আসার।

বাড়ির মালিক পণ্ডিত খেমরাজ পালিওয়ালকে থাকতেই হচ্ছে ওই বাড়িতে। চোখের জল সামলিয়ে তিনি শুধু এটুকুই বলতে পারলেন যে, এরকম নিরীহ একজন মানুষের সঙ্গে এই নৃশংসতা!

অটোরিকশাচালক রামলাল গত নয়-দশ বছর ধরে আফরাজুল আর তার সঙ্গী-সাথীদের নিজের গাড়িতে চাপিয়ে কাজের জায়গায় পৌঁছিয়ে দিতেন।

তার ভাষায়, "খুবই ভদ্র আর ভালো মানুষ ছিলেন আফরাজুল। চা খেতে ভালোবাসতেন। আমাকেও বারে বারে চা খাওয়াতেন।"

আফরাজুলের হত্যার ভিডিওটা সাহস করে দেখতে পারেননি রামলাল।

রাজসমুন্দে ১২-১৩ বছর আগে এসেছিলে আফরাজুল - দিন মজুরীর কাজ করতে। ধীরে ধীরে দিন মজুর থেকে ঠিকাদার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রাস্তা তৈরির ঠিকাদারি করতেন তিনি। অন্য ঠিকাদারদের থেকে কাজ নিয়ে কিছুটা কম মজুরিতে করিয়ে দিতেন তি