বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


শরিয়তের মানদণ্ডে লাইলাতুল বারাআত বা শবে বরাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা ফাহিম বদরুল হাসান
প্যারিস, ফ্রান্স

“ফারসিতে ‘শব’ মানে ‘রাত/রজনী’ এবং ‘বরাত’ মানে ‘ভাগ্য’। অতএব শবে বরাতের মানে দাঁড়ালো ‘ভাগ্য-রজনী’। আরবিতে তা হয় ‘লাইলাতুল কদর’। এবং লাইলাতুল কদর শা’বান মাসে নয় বরং রামাদানের শেষ দশকে হয়ে থাকে। সুতরাং যা-ই শবে বরাত, তাই শবে কদর।

শবে বরাত বলতে ইসলামে আলাদা কিছু নেই”- এরকম ব্যাখ্যা করে শরিয়তে শবে বরাতের অস্তিত্ব অস্বীকার করাটা একদিকে ইসলামের উপর অবিচার, অন্যদিকে মুসলমানদের একটি মহিমান্বিত রাত থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা। কারণ, শবে বরাত এবং শবে কদর- সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো রাত। শবে বরাতের আরবি হচ্ছে লাইলাতুল বারা’আত।

শাব্দিক বিশ্লেষণ
ليلة (লাইলাতুন) অর্থ- রাত, এবং البراءة (বারা’আতুন) অর্থ- মুক্তি (Freedom)। বিভিন্ন ডিকশোনারিতে এছাড়াও বেশকিছু অর্থ পাওয়া যায়। যেমনঃ absolution- ক্ষমা, clearance -খালাস, being free- মুক্ত, exemption- দায়মুক্তি, Freedom from obligations-অভিযোগমুক্ত, Blamelessness- অপবাদমুক্ত, Innocence- পাপমুক্ত/ নিষ্পাপ ইত্যাদি।

শব্দদ্বয়ের মিলনে লাইলাতুল বারাআত অর্থ দাঁড়ালো- মুক্তির রাত, ক্ষমার রাত, পাপমোচনের রাত ইত্যাদি।

ইসলামে লাইলাতুল বারাআতের অস্তিত্ব
শবেবরাত/ লাইলাতুল বারাআত/মুক্তির রাত- যে নামেই ডাকা হোক, হাদিসে “লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান” বা শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতের ফযিলত অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই । কারণ, রাতটিতে আল্লাহ (ﷻ) যে মুশরিক এবং বিদ্বেষী ব্যতিত সকলকে ক্ষমা করে দেন- এবিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় বহু হাদিস এসেছে। যেমনঃ

(১)
মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন- রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’-সহিহ ইবনে হিব্বান

[সনদের মান সহিহ। হাদিস নং ৫৬৬৫। এ ছাড়া ইমাম বাইহাকি (রহঃ) শুআবুল ঈমানে (৩/৩৮২, হাদিস ৩৮৩৩); ইমাম তাবরানি আলমুজামুল কাবির ও আলমুজামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন।]

(২)
হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বলেছেন, হে হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্à