মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
আমরা তেঁতুলের নাম শুনলেই যেমন রসপ্লাবিত হই, ঐক্য ও একতা শব্দটিও তেমনি আমাদের সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে দেয় সাহসের বিদ্যুৎ। একতার শক্তি আর ঐক্যের জয় আমাদের কাছে চেনা মানুষের মতো চেনা এবং দেখা শহরের মতো দেখা। কী পরিবার কী সমাজ কী রাষ্ট্র সবখানেই প্রতিনিয়ত আমরা দেখি ঐক্যের জয়। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বিজয়ের পথকে কীভাবে সহজ করে এই মাটিতে আমরা দেখেছি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে। আর দানব ইংরেজদের তাড়াবার জন্য আমাদের পূর্বসূরিগণ হিন্দু ভীরুদেরকে পর্যন্ত টেনে এনে এক মঞ্চে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন তো এই ঐক্যের স্বার্থেই।
সেবারও তাদের মন্ত্র বিফলে যায়নি। বর্বর সাদা ভল্লুকের দল এই ভারতবর্ষ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে সংগ্রামে বিজয়ে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই মন্ত্র অব্যর্থ। শুধু প্রাপ্ত দগ্ধ অভিজ্ঞতাই নয়। এই মন্ত্র আমাদের শিখিয়েছে কুরআন! এই ধন আমাদের গর্বের ধর্ম ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য। ইসলামই আমাদেরকে শক্তি সাহস ও বিজয়ের এই পাটাতনের উপর দাঁড় করিয়েছে অসামান্য যত্ন ও সাধনায়। কুরআন কী চমৎকার করে বলেছে হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোনোভাবেই মরো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু আর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা ছিলে অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে। আল্লাহ তোমাদেরকে সেখান থেকে রক্ষা করেছেন। এইভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার নিদর্শনাবলী স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা সুপথ পেতে পার’ [ আল-ইমরান :১০২-১০৩ ]
ঐক্যের বিপরীত বিবাদ। তাই বিবাদকে প্রত্যাখান করেছে এইভাবে ‘তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে, নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না। করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। তোমরা ধৈর্য ধরো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। [ আনফাল : ৪৬ ] আল্লাহর দ্বীন এবং প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ ও আদর্শ প্রতিভাত হওয়ার পরও যদি কেউ ভিন্ন পথের সৃষ্টি করে তাহলে তার পরিণতি কী হবে এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন, ‘যারা তাদের দ্বীনকে নানা ভাগে ও মতে ভাগ করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোনো