আওয়ার ইসলাম: বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের পাকিস্তানি অংশে বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' চালানোর দাবি গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিল।
এর কয়েকদিন আগে ভারত শাসিত কাশ্মীরের একটি সেনা ঘাঁটিতে এক হামলায় অন্তত ১৮ জন সৈন্য নিহত হয়। ভারত এজন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' নামক ওই অভিযানকে তাদের সমর্থকেরা বর্ণনা করেন পাকিস্তানের জন্য একটি বহু প্রতীক্ষিত উচিত শিক্ষা হিসেবে।
কিন্তু ইসলামাবাদ এমন অভিযানের খবর নাকচ করে দিয়ে বলে এটি একটি 'বিভ্রম'। বিবিসির এম ইলিয়াস খান কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জানতে চেষ্টা করেছেন ২৯শে সেপ্টেম্বর সকালে আসলে কি ঘটেছিল।
ভারতীয় সৈন্যরা সেদিন কি করেছিল?
যদিও অভিযানটিকে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' বলে বর্ণনা করা হচ্ছে, কিন্তু ভারতীয়রা অবশ্যই কাশ্মীরের পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশের কথিত জঙ্গি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানোর লক্ষ্যে সেখানে বিমান থেকে সৈন্য নামায়নি। তবে তারা স্থলপথে নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) অতিক্রম করেছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা নিয়ন্ত্রণ রেখার এক কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত গিয়েছিল।
পাকিস্তানের পুলিশ কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন যে, শ্রীনগরের মাদারপুর-তিত্রিনট এলাকায় এমন স্থল হামলা হয়েছে।এখানে একটি পাকিস্তানি চৌকি ধ্বংস হয়েছে এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। লিপা উপত্যকার স্থানীয়রা বলছেন, ভারতীয়রা নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ঢালের উপর অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।
সেখান থেকে অনতিদূরেই একটি পাকিস্তানী সীমান্ত চৌকি ছিল হামলার লক্ষ্য। পাহাড়ের উপরিভাগের আরো দুটি সীমান্ত চৌকিও আক্রান্ত হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, ভোর পাঁচটা থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় চার জন পাকিস্তানি সৈন্য আহত হয়। নিলুম উপত্যকায়ও একই রকম স্থল হামলা চালায় ভারতীয়রা। তবে পাকিস্তানী সৈন্যরা এসব হামলাকে সাধারণ আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির বেশী কিছু বলতে নারাজ।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকার ভূপ্রকৃতি এমন যেখানে ভারতীয় সৈন্যদের পক্ষে সেখানে পৌঁছে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আবার জীবিত ফিরে আসতে পারাটা সম্ভব নয়। ভূপ্রকৃতিগত কারণে হেলিকপ্টার থেকেও এয়ারড্রপ কিংবা এয়ারলিফ্ট করা সম্ভব না, কারণ তার আগেই পাকিস্তানি বাহ