বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


গায়ক থেকে যেভাবে আইএসে সফি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

safiআওয়ার ইসলাম: ছিলেন প্রাণচঞ্চল। গান গাইতেন। ভালোবাসতেন রবীন্দ্র সংগীত। সুরেলা গলা, গিটারে পাকা হাত। রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কাছেই পরিচিত মুখ ছিল সে। হঠাৎ করে পাল্টে গেল সব। হয়ে গেল জিহাদি সংগঠন আইএসের অনুসারী।

গুলশানে এটাকের পর

ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ২২ জনকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর। ইন্টারনেটে ‘বাংলায় খিলাফাহর বীরদের প্রতি’ (টু দ্য নাইটস অফ দ্য খিলাফা ইন বেঙ্গল) শিরোনামে হাড়হিম করা একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যাকপ্যাক কাঁধে একটা ছেলে স্পষ্ট বাংলা আর ইংরেজিতে বাংলাদেশকে বলছে, ‘তোমরা কখনো এ জিহাদকে বন্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সারা দুনিয়ার বুকে খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়… তোমরা বাংলাদেশে যা দেখেছ তা একটা ঝলক ছাড়া কিছুই নয়। যতদিন না আমরা জয়ী হব, ততদিন এটা চলতেই থাকবে…’।

ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এ ভিডিও। মুখটা যেন চেনা চেনা। হ্যাঁ, ওই ছেলেটাই তো, ওই যে গান গাইত! ২০০৫ সালের গানপাগল সেই যুবক ১১ বছর পেরিয়ে আজকের জঙ্গি। নাম তাহমিদ রহমান সফি। আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ বলছে, ওই ভিডিও আইএসের রাজধানী সিরিয়ার রাক্কায় ধারণ করা হয়েছে।

ক্লোজ আপ ১ থেকে

কোন বিপন্নতা থেকে এত বদলে গেল গায়ক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সফি? গুলশানের আততায়ী নিব্রাস, রোহন, খাইরুল, শফিকুলদের দিশেহারা পরিবারের মতো এ প্রশ্ন এখন বছর তিরিশের তাহমিদের আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুদেরও। একবার মৌসুমি ভৌমিক ব্র্যাক-এ অনুষ্ঠান করতে আসায় যে সফি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়রকে মেসেজ পাঠাত ‘দিদি, আজ মৌসুমিদির গানের সময় তুমি অবশ্যই ক্যাম্পাসে থাকবা।

আল-কায়দায় নাম লেখাবি…

মেলানো যাচ্ছে না আরও অনেক কিছুই। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে বিজনেস স্টাডিজ পাশ করে ২০০৫-এ ব্র্যাকে ভর্তি হয় সফি। স্কলারশিপ নিয়ে পড়ত বিবিএ। বন্ধুরা জানান, যেমন স্মার্ট, তেমনই ভদ্র ছিল সফি। রবিউল আর রেফুলের (ছদ্মনাম) সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল সবচেয়ে বেশি। রবিউল ছিল ধর্মপ্রাণ নমাজি। নিজে ধর্মের চৌকাঠ মাড়ানো দূরের কথা, সফি বরং তখন রবিউলের পিছনে লাগত, ‘তুই তো বড় হয়ে হুজুর হবি, সাম্প্রদায়িক শিক্ষা দিবি, আল-কায়দায় নাম লেখাবি, লোক মারবি! সফি গোঁফ-দাড়ি রাখত না বলে রবিউল তাকে পাল্টা মজা করে ডাকতেন মাকুন্দা’। রবিউল বুঝে উঠতে পারেন না, কী করে সেই সফির জীবন এমন ধ্বংসের পথে চলে গেল।

নায়ক যখন আল-অওলাকি

সফি যে অন্য জগতের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তা একটু আঁচ পেয়েছিল তার বন্ধুরা। ২০১০-১১ সালের কথা। প্রেমিকার সঙ্গে তখন সদ্য বিচ্ছেদ হয়েছে সফির। তার আগে বছর চারেক টেলিকম সংস্থা গ্রামীণফোনে কাজ করেছে সে। ঢাকা বিশ্à¦