বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ধারাবাহিক উপন্যাস : অশুদ্ধ পুরুষ ৫

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

monirমনির প্রধান: জীবন যুদ্ধের আট থেকে বার ঘণ্টা পরিশ্রমের ক্লান্তি যেমন মাঝেমধ্যে জীবনকে বিষিয়ে তোলে, অফুরন্ত অবসরও কখনো তেমন মনে হয়। মানুষের সৃষ্টিই হয়েছে কিছু না কিছু করার জন্য। রাশেদের ভালো লাগে না। কিছু একটা করতে হবে ভাবলেও সে কিছুতেই হাত দেয় না। অধিক অবসর মানুষকে ধীরে ধীরে অকর্মণ্য বানিয়ে দেয়। রাশেদ এখন অপেক্ষা করে একটি পরম সান্নিধ্য। একটি নতুন অভিজ্ঞতার।

তুমি আরাফাত?
জি।
ফারহিকে পড়াও?
জি।
কী পড়াও?
এই তো, ইংরেজি, বাংলা, অংক সব।
কেমন পড়াও?

প্রশ্নটা অবিবেচকের মতো হয়ে গেছে বুঝতে পেরে নাজমুল হুদা সাহেব প্রশ্নটা এড়িয়ে আবার নতুন প্রশ্ন করেন। ফারহি পড়াশোনায় ভালো তো? কেমন বোঝো?
ফারহি পড়াশোনায় খুব ভালো।

মেয়ের প্রশংসা শুনে নাজমুল হুদা হয়তো মনে মনে গর্ববোধ করেন। অস্পষ্ট এক চিলতে হাসি খেলে যায় তার দু’চোখের কোণ বেয়ে।

আমার সবগুলো ছেলেমেয়ের বুদ্ধিশুদ্ধি ভালো। এদেরকে নিয়ে আমার উচ্চাশা আছে। ইচ্ছে আছে ফারহিকে ডাক্তার বানাবো। ফাইভে ও বৃত্তি পেয়েছিল। খুব ব্রিলিয়ান্ট। বড় মেয়ে লুবনাও ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসি’র রেজাল্টও ছিল ভালো। গোল্ডেন এ-প্লাস। ফারহিকে ভালোভাবে গাইড কোরো। অবশ্য তুমি নাকি খুব ভালোই পড়াও শুনেছি। ভালোর মধ্যেও যেন সেরা ভালোটা হয়। ঠিক আছে?
জি ভাইয়া।
হোয়াট! তুমি কি আমাকে ভাইয়া বললে?
জি।

তোমার সাথে আমার বয়সের ডিফারেন্স কতো জানো? কম হলেও ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর। তোমার বয়সী আমার একটা মেয়ে আছে। আমাকে ভাইয়া সম্বোধন তোমার জন্য কোনোভাবেই যায় না।
আরাফাত চুপচাপ বসে থাকে। বর্তমান সমাজে দাদার বয়সী মানুষকেও ভাইয়া বললে আনন্দিত হয়। না, সবাই আনন্দিত হয় না। যারা নিজেকে খানিকটা উগ্র আধুনিক ভাবতে ভালোবাসে তারা আনন্দিত হয়। ফারহির বাবা ভদ্রলোক বুঝি ওই টাইপের মানুষ নন। এর পরেও তিনি এতোটা রিএ্যাক্ট করবেন আরাফাত ভাবতে পারেনি।

আরাফাতের দোষ কি। সে নিরুপায়। প্রথম যেদিন সে পড়াতে আসে সেদিনই ফারহির মা তাকে বললেন, তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ফারহিকে নিজের ভাগ্নি মনে করে পড়াবে। এ কথা এই জন্য বললাম, শুনেছি তুমি খুব ভালো স্টুডেন্ট। একটু বেশি যতœ করে পড়ালে ফারহি নিশ্চয়ই ভালো পারবে। ফাইভে ওর বৃত্তি আছে। আমি চাই জেএসসিতেও খুব ভালো রেজাল্ট যেন সে করে। ফাউন্ডেশন যার যতো মজবুত তার ওপরটাও ততো ভালো।

ব্যাখ্যাটাই আরাফাতের কানে চট করে বেজে উঠেছিল। ভদ্র মহিলার মনে নিশ্চই কিন্তু আছে। নইলে ফারহিকে তার ভাগ্নি বানিয়ে দিয়ে ব্যাখ্যায় যেতেন না। মানুষ তখনই ব্যাখ্যায় যায়, যখন তার মাঝে খুব সূক্ষ্ম হলেও অপরাধবোধ তৈরি হয়। ভদ্র মহিলা কি ভেবে রেখেছেন আরাফাত পড়াতে যেয়ে ফ