মনির প্রধান : ফারহি, ঘুমাসনি?
ফারহি কোনো উত্তর না দিয়ে লুবনার গা ঘেঁষে বিছানায় বসে।
কিছু বলবি ফারহি?
আপা, বাবা আজও মাকে মেরেছে।
জানি।
আমার কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে আপা।
ফারহি, যা ঘুমা। রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে। কাল সকালে কথা বলবো, যা।
একটা স্পষ্ট দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফারহি উঠে দাঁড়ায়। মন্থর গতিতে বেরিয়ে যায় লুবনার ঘর থেকে। লুবনার বড় মায়া হয় ফারহির জন্য। লক্ষ্মী বোনটা তার দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছুই এখন বোঝে। হয়তো নিজের বিছানায় কিছুক্ষণ চোখের জল ফেলবে এখন। তার খুব ইচ্ছে করে ফারহিকে ডেকে একটু বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। এই বয়সের মেয়েরা সামান্য আদর পেলেই গলে পড়ে যায়। দু’একটা ভালোবাসার কথা অথবা কটু কথায় নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। তার নিজেরও এমন সময় গিয়েছে। বড় কষ্টের সময়। বড় জঘন্য সময়।
মোবাইলে টুট টুট শব্দ হয়। রাশেদ এসএমএস করেছে একটা। ‘উইনডোটা খুলে দেখো, চাঁদটা ঠিক তোমার মতো।’ ছোট্ট দু’লাইন লেখা। এর মধ্যেই যেন একদল ভালো লাগার, একদল ভালোবাসার বাক্য মিশে গেছে অনায়াসে। রিপ্লাই দিতে ইচ্ছে হয় লুবনার। আবার ইচ্ছে হয় না। মার কথা মনে পড়ে। মা বোধহয় কাঁদছে। এমন একটি মুহূর্তে প্রেমিক পুরুষের সাথে রোমান্টিক এসএমএস চালাচালি করা খুব অন্যায়। তবু কেন যেন হৃদয়ের খুব গভীরে কোথাও এই অন্যায়ের বাঁধটা ভাঙতে ইচ্ছে হয়। নিজ নিজ সুখের, নিজ নিজ ভালোমন্দের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা মানুষই বোধহয় একটু হলওে স্বার্থপর।
লুবনার একবার ইচ্ছে হয় মার ঘরে উঁকি দিতে। ‘কেঁদো না মা, তোমার মতো লক্ষ্মী মেয়ে এই পৃথিবীতে আর একটাও নেই।’ এমন কিছু কথা মায়ের কাঁধ ছুঁয়ে বললে মা হয়তো কান্না বন্ধ করবে। অথবা হতে পারে আরো বেশি ডুকরে উঠবে কান্নায়। ঘরের বাতি জ্বালিয়ে আবার তা বন্ধ করে দেয় লুবনা। মার ঘরে যাওয়া এখন উচিত হবে না বোধহয়। মা লজ্জা পেতে পারে। মার ধারণা কুৎসিত ব্যাপারটা সম্পর্কে তারা দু’বোন কেউ কিছু জানে না। তুমি কি জানো মা, কী কান্না আমরা দু’বোন তোমার জন্য কাঁদি।
রওশন আরার ইচ্ছে হয় খানিকক্ষণ ছাদে গিয়ে হাঁটতে। খুব যখন মন খারাপ হয় তখন বিচিত্র সব ভাবনা চিন্তা মনে আসে। খুব সাধারণ জিনিসকেও অন্যরকম লাগে। পরিচিত কোনো সাধারণ গান বারবার শুনলেও মন ভরে না। একবার রওশন আরা হাবিবের চন্দ্রগ্রহণ গানটা ষোলবার শুনেছিলেন। আরও শোনার ইচ্ছে ছিল। বাথরুমের চাপ এলো। বাথরুমের চাপ কি মনের ইচ্ছা অনিচ্ছার ভাষা বোঝে? তার ভাষা একটাইÑবদনা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি।
রওশন আরা বিছানার নিচ থেকে ট্যাবলেটের পাতাটা বের করেন। স্লিপিং পিল। মিট্রাস পনের মিলি। হেভি পাওয়ারফুল। মরে যাওয়ার জন্য পাঁচ সাতটা খাওয়াই যথেষ্ট। বিশ বাইশটার প্রয়োজন à