আওয়ার ইসলাম: শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী এখন এমন এক বয়সে উপনীত, যখন মানুষের নিজস্ব কোনো চিন্তা গঠন হয় না। নিজে নিজে কিছু করার সক্ষমতার সময়গুলো তিনি ফেলে এসেছেন দূর অতীতে। এই পর্যায়ের মানুষদের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও সক্রিয়তার পুরোটাজুড়েই থাকে ঘনিষ্ঠজনদের বিচরণ। তাই ভালো-মন্দের কৃতিত্ব-দায়টাও প্রধাণত তাদেরই প্রাপ্য। কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। ইতিহাস এমন মহানদের জীবনময় কর্মগুলোকে যেমন তাদের জীবনীতে আলোকপাত করে, তাদের শেষ জীবনের এই ঘনিষ্ঠজনদের তৎপরতাগুলোকেও তাদেরই জীবনসূচীতে গেঁথে রাখে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ইসলামপন্থীদের অবিস্মরণীয় ঐক্যমতের যে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা আল্লামা আহমদ শফী পেয়েছেন, তা এক কথায় অভূতপূর্ব ও অতুলনীয়। ২০১৩ সালে হেফাজতের অভ্যুদয় তাকে জাতীয় পর্যায়ের এই সমীহ জাগানিয়া উচ্চতায় আসীন করেছে। হাটহাজারীর গোশানাশীন বুজুর্গী থেকে তিনি বাংলাদেশের এক মহান প্রভাবক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। এই সময়টাতে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
আল্লামা আহমদ শফীর এই সন্মান ও প্রভাব ওনাকে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের অবিসংবাদিত প্রতীকে পরিণত করেছে। এর পেছনে নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছে ওনার সর্বজনগ্রহনযোগ্যতা তথা মাকবূলিয়তে আম্মাহ। কাজেই আজকের আল্লামা আহমদ শফী শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। যেই প্রতিষ্ঠানের ভিত রচনায় যেমন ব্যক্তি আহমদ শফীর শতাব্দীকালের কর্মের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি ভূমিকা রয়েছে সারাদেশের ওই সকল আলেমদের, যারা বছর বছর ধরে তাঁর আনুগত্য করেছেন নির্দ্বিধায়, তাঁর নেতৃত্বের কথা জোরগলায় বলে বেড়িয়েছেন মিম্বর থেকে রাজপথে। একজন জাতীয় প্রভাবক আহমদ শফী বিনির্মাণের ইতিহাস রচিত হয়েছে বহু শহীদের লাল লহুতে। আল্লামা আহমদ শফী তাই ঘনিষ্ঠজনদের নিকট জাতির আমানত। শত শহীদের রক্তবিধৌত লাল উপাখ্যান।
হেফাজতের মহা জাগরণ যেমন গোশানাশীন আহমদ শফীকে জাতীয় প্রতীকে পরিণত করেছে, তেমনি হাদীসের মসনদনাশীন জুনায়েদ বাবুনগরীকেও দিয়েছে জাতীয় বীরের গৌরবজনক খেতাব। তাই আল্লামা আহমদ শফীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভিত্তিহীন অভিযোগ যেমন শুধু হাটহাজারী মাদরাসার এহতেমামের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ নয়, বরং জাতির শ্রদ্ধার আসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নামান্