বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ।। ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

শিরোনাম :

নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অনুমোদন পেল 'হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ'


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৬৮টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংস্থাটির সরকারী নিবন্ধন নং- S-13879/2022।

ওলামায়ে কেরামের পরামর্শে পরিচালিত হাফেজ্জী চ্যারিটেবল স্যোসাইটি অব বাংলাদেশের মানুষ ও মানবতার সেবায় কাজ করে থাকে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে। বন্যা, দুর্যোগ ও বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে তারা অসহায়দের সেবায় এগিয়ে আসে।

ধনীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিঃস্ব ও দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজ বিশ্বস্ততার সাথে করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বচ্ছল ও ধনীদের অনুদান এ সোসাইটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটির ভাষ্য, অসহায়-গরীবদের পাশে দাঁড়ানো মুসলিমদের ঈমানি দায়িত্ব। ঈমানি দায়িত্ব হিসেবেই তারা দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতার মাধ্যমে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন। তবে সরকার নিবন্ধিত এই সেবা সংস্থাটি প্রথমবারের মতো নির্বাচনী পর্যবেক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেল।

এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ দেশে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়ে আমরা আশাবাদী। আমরাও মনে করি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে। এই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সমর্থ হবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে যেকোনো মূল্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। সেজন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখবে। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি ফর বাংলাদেশ সর্বদা সচেতন থাকবে।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের পরিচালক মোহাম্মদ রাজ আওয়ার ইসলামকে বলেন, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি ফর বাংলাদেশ ওলামায়ে কেরামের পরামর্শে দেশবাসীর জন্য বরাবর সেবামূলক কাজ করে আসছে। এবারে আমরা দেশের জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করত্রে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে চাই। সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের সঙ্গে নিয়ে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করব ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালে ১১৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছিল ইসি। ওই সংস্থার পাঁচ বছর মেয়াদ গত ১১ জুলাই শেষ হয়েছে। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধন চেয়ে নির্বাচন কমিশনে ২০৬টি বেসরকারি সংস্থা আবেদন করে। ইসির যাচাই-বাছাইয়ে টিকেছিল ৯৪টি। ওই সব পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও ইসির নিজস্ব বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও ২৬টি সংস্থার নাম বাদ দিয়ে ৬৮টি সংস্থার নামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করলো কমিশন। অভিযোগ শুনানি প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়ার সময়ে এ সংখ্যা আরও কমতে পারে। এর ফলে গত নির্বাচনের চেয়ে আগামী নির্বাচনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে দাঁড়াচ্ছে। তবে গতবার নিবন্ধন ছিল এমন ২৮টি সংস্থার নাম এবারের তালিকায়ও রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের পদ্ধতি চালু করা হয়। বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে সংযোজন করা হয় এবং ইসি একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালা তৈরি করে। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ১৩৮টি সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছিল ইসি। এর মধ্যে ৭৫টি সংস্থার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন পর্যবেক্ষক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিল ৮১টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা।

এমএম/

 


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ