অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের উদ্যোগে ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় দুই দিনব্যাপী ‘তাফহিমে শরিয়ত’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লখনউয়ের আল্লামা হায়দার হাসান খান টঙ্কি হলে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
শনিবার (২৩ মে) কর্মশালার শেষ দিনে সভাপতির বক্তব্যে বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী বলেন, মুসলিম পার্সোনাল ল’ রক্ষার জন্য মুসলমানদের নিজেদের জীবনে শরিয়তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইসলামের শিক্ষা নিয়ে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে আলেমদের প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতিতে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরতে হবে।
মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সভাপতি বলেন, দাওয়াত ও দীনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মানুষের মানসিকতা ও বাস্তবতা বুঝে কথা বলা জরুরি। নবী করিম সা.-এর দাওয়াতি পদ্ধতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি সমাজ ও শ্রেণির সঙ্গে তাদের উপযোগী ভাষায় কথা বলাই সফল দাওয়াতের মূলনীতি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মাওলানা সাইয়্যেদ বিলাল আবদুল হাই হাসানি নদভী বলেন, বর্তমান সময়ে ইসলাম সম্পর্কে যে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, শুধু অমুসলিমরাই নয়, শিক্ষিত মুসলিম সমাজের একটি অংশও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা তুলে ধরতে এমন কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় মাওলানা আতীক আহমদ বাস্তভি বলেন, শরিয়তের প্রতিটি বিধানই প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা দূর করতে ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপস্থাপনার বিকল্প নেই।
কর্মশালার বিভিন্ন অধিবেশনে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ভরণপোষণ, বহুবিবাহ, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন, এতিম নাতির উত্তরাধিকার এবং ইসলামে তালাক ব্যবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, ইসলামী শরিয়তের প্রতিটি বিধান মানব সমাজে ভারসাম্য, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রণীত।
একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে মুসলিম পার্সোনাল ল’ এবং আদালতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন মাওলানা তাবরিজ আলম কাসেমি। তিনি বলেন, আদালতের কিছু পর্যবেক্ষণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে মুসলিম পার্সোনাল ল’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অধিকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এছাড়া অধ্যাপক নাসিম আহমদ জাফরি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নামে সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি সংখ্যালঘুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি কার্যকর হলে মুসলমানদের বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।
কর্মশালায় বিভিন্ন অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা শরিয়ত, আইন ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং বক্তারা সেগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেন।
জেডএম/
