শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ।। ৬ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ১০ শাওয়াল ১৪৪৫


ধূমপানে নষ্ট হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ধূমপানের কারণে ফুসফুসের সমস্যা, ক্যান্সার, হৃদরোগ হওয়া ছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাজে প্রভাব পড়ে।

আর তামাক গ্রহণ ছেড়ে দিলেও এই প্রভাব বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে। এরকমই দাবি করা হয় ‘ন্যাচার’ জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায়।

প্যারিসের ‘ইন্সটিটিউট প্যাস্টার’য়ের করা এই গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায় ধূমপায়ীদের।

তবে এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে কীভাবে সময়ের তালে তালে ধূমপায়ীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। যা থেকে নানান দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ ও ‘লুপাস’ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের দেহের কোষকেই আক্রান্ত করার মতো অবস্থার ঝুঁকি তৈরি হয়।

“যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধূমপান বন্ধ করুন”- সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এভাবে সতর্ক করে এই গবেষণার সহকারী-গবেষক ‘প্যাস্টার ইন্সটিটিউট’য়ের ‘কম্পিউটেশনাল বায়োলজি’ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিয়োলান সেইন্ট-আন্দ্রে বলেন, “বিশেষ করে তরুণদের জন্য আমাদের এই গবেষণার প্রধান বার্তা হল, দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে ধূমপান শুরু করাই উচিত না।”

গবেষকরা সময়ের সাথে সাথে ২০ থেকে ৬৯ বয়সি ১ হাজার স্বাস্থ্যবান নারী ও পুরুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেন।

জীবনযাপনের ধারা, আর্থসামাজিক বিষয়, খাদ্যাভ্যাস-সহ বয়স, লিঙ্গ ও বংশগত- বিষয়গুলো মিলিয়ে ১৩৬ ধরনের প্রভাবক ধরে গবেষকরা দেখতে চেয়েছেন কীভাবে ধূমপান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

তারা রক্তের নমুনায় ‘ই.কোলি’ ব্যাক্টেরিয়া এবং ‘ফ্ল’ ভাইরাসের মতো জীবাণুর সংস্পর্শ ঘটিয়ে দেখার চেষ্টা করেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কীভাবে সাড়া দেয়।

ফলাফল নিয়ে আরেক সহ-গবেষক ডা. ডারাহ ডাফি বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে তামাক গ্রহণ ছেড়ে দেওয়ার পর ধূমপায়ীদের এক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত হলেও, বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণভাবে আরগ্যলাভ করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “তবে শুভ সংবাদ হল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনরায় সেরে উঠছে। তাই বলবো ধূমপান কখনই শুরু করা উচিত না। আর যারা ধূমপায়ী তাদের এখনই উচিত এই অভ্যাস বন্ধ করা।”

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যত ধূমপান করা হবে ততই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাড়া দেওয়ার বিষয়টা পরিবর্তিত হতে থাকবে।

দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুভাবে কাজ করে। প্রাথমিক পর্যায় এবং পরবর্তী পর্যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ে- ত্বক, শ্লেষ্মা ঝিল্লি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কোষ ও প্রোটিন- জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এটা দ্রুত ঘটলেও অনেকটা ভোঁতা অস্ত্রের মতো। তাই দেহ যখন দেখে- প্রাথমিক পর্যায়টা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে না তখন পরবর্তী পর্যায় বা ‘অ্যাডাপ্টিভ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করা শুরু করে। যা কি-না রক্তে থাকা ‘অ্যান্টিবডিজ’ ও অন্যান্য দৈহিক তরল, বি এবং টি ‘লিম্ফোসাইটিস’- এগুলো দেহের জন্য কোনগুলো হুমকি স্বরূপ ও কোথায় আঘাত হানতে পারে সেগুলো সম্পর্কে ‘মনে রাখে’।

সেইন্ট আন্দ্রে বলেন, “আমাদের গবেষণার প্রধান আবিষ্কার হল ধূমপান স্বল্প সময় ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে ‘অ্যাডাপ্টিভ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে জড়িত ‘বি কোষ’ ও নিয়ন্ত্রক ‘টি কোষ’য়ে ‘এপিজেনেটিক’ বা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রভাব ফেলে।

‘আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’য়ের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. অ্যালবার্ট রিজো এই গবেষণার সূত্র ধরে বলেন, “বহু আগে থেকেই চিকিৎসকরা জানেন ধূমপানের কারণে ফুসফুস আক্রান্ত হয়। তবে এতদিন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় রাখা প্রভাবটাকে গোনায় ধরা হত না।”

“তবে এখন বোঝা যাচ্ছে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও ধূমপায়ীদের মধ্যে কেনো ‘ক্রনিক অস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)’ বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ দেখা দেয়”- মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

গবেষণার সাথে যুক্ত না থেকেও ডা. রিজো আরও বলেন, “এতদিন আমরা যেটা ভাবতাম- কেনো এরকম হয়, এখন সেই ‘কেনো’র ব্যাখ্যা পাওয়া গেল।”

এনএ/


সম্পর্কিত খবর