সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ।। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৮ জিলহজ ১৪৪৭


জিলহজ: ইবাদত ও আমলের বসন্ত


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা বুরহানুদ্দীন বিন সাদ ||

হিজরি সনের সর্বশেষ মাস জিলহজ । এটি হজ ও কুরবানির মাস। উভয় আমলের রয়েছে স্বতন্ত্র ফজিলত ও বিধান। কুরআন কারিমের সুরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা যে চার মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা করেছেন, জিলহজ মাস তার অন্যতম। এ মাসের ফজিলতপূর্ণ দিবসগুলোর মধ্যে রয়েছে আশারায়ে জিলহজ। তথা জিলহজের প্রথম দশক। কুরআন মাজিদের সুরা ফাজরে আল্লাহ তাআলা যে দশ রজনীর শপথ করেছেন, সেই দশ হল জিলহজের প্রথম দশক। হজরত ইবনে আব্বাস রা. হজরত ইবনে যুবাইর রা. ও মুজাহিদ রাহ.-সহ পূর্ববর্তী-পরবর্তী অনেক মুফাসসির এ মতই ব্যক্ত করেছেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির: ৮/৩৬০)

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দশকের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর নিকট জিলহজের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোন দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও (এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ ঐ ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বেরিয়ে পড়েছে অতপর সেখান থেকে আর ফিরে আসে নি। (অর্থাৎ তার আমলই এ দশদিনের অন্যান্য নেক আমল থেকে উত্তম হতে পারে।)’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)

এ দশদিনের মাঝে রয়েছে ইয়াওমে আরাফা। অর্থাৎ জিলহজ মাসের নবম তারিখ। এদিনে হাজি সাহেবগণ উকুফে আরাফা করেন। হজের মূল দিন হচ্ছে জিলহজের নয় তারিখ। এদিনে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতের জোয়ার প্রবলবেগে ধাবিত হয়। হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)

এ-মাসের কিছু আমল:

ক. যেহেতু আল্লাহ তাআলার কাছে এদশদিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমরা এদিনগুলোতে বেশি বেশি নামায, তিলাওয়াত, দুআ-মোনাজাত ও তাসবিহ-জিকিরের প্রতি মনোনিবেশ করবো। এ-দশদিন তাহাজ্জুদের নামায পড়া মুস্তাহাব। (লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ. ৩৫৪)

প্রখ্যাত তাবেয়ি ইকরিমা রহ. বলেন, আইয়ামে তাশরিকের মধ্যে এদুআটি পড়া মুস্তাহাব

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

(লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ: ৩৮৮)

খ. এদিনগুলোতে আমরা রোযার প্রতি মনোযোগী হবো। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজে¦র নয়টি দিবসে রোজা রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৩৭)

গ. বিশেষ করে নয় তারিখ ইয়াওমে আরাফার দিন রোজা রাখার চেষ্টা করবো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

ঘ. এদশকের আরো একটি বিশেষ আমল হলো, জিলহজের চাঁদ ওঠা থেকে নিয়ে কুরবানি করা পর্যন্ত নখ, চুল ও শরীরের অবাঞ্চিত পশম না কাটা, না ছাটা। অতএব জিলহজ আসার আগেই নখ-চুল কেটে ছেটে পরিপাটি হয়ে থাকা বাঞ্চনীয়। যারা কুরবানি করবেন তারা তো এর প্রতি যত্নবান হবেনই। আর যারা কুরবানি করবেন না, তারাও এ আমলে শরিক হবেন। এমনকি বাচ্চাদেরকেও অভিভাবকগণ চুল-নখ কাটা থেকে রাখতে পারেন। এতেও ইনশাআল্লাহ সাওয়াব হাসিল হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস, ৪৩৬৫)

ঙ. জিলহজ মাসের নয় তারিখ ফজর থেকে নিয়ে তের জিলহজ আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নারী-পুরুষ সকলের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। তাকবিরে তাশরিক হলো, الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلّا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد.

(আল মুহীতুল বুরহানী, ২/১১৯; ফাতহুল কাদীর, ২/৮১; রদ্দুল মুহতার, ২/১৭৮; হিন্দিয়া, ১/১৫২)

লেখক: উস্তাদ, জামিয়া দারুল ঈমান, বেগম মসজিদ কমপ্লেক্স, চাঁদপুর।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ