মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ ।। ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৩ জিলহজ ১৪৪৭


আসামে স্কুলের টিফিনে গরুর মাংস নিয়ে বিতর্ক, ৫ মুসলিম শিক্ষার্থীর বহিষ্কার ঝুঁকি


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে, একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচজন মুসলিম ছাত্র বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছে। গত ৫ জুন তাদের মধ্যে একজন তার টিফিন বাক্সে গরুর মাংস এনে দুই হিন্দু সহপাঠীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিন্দু শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের জানানোর পর সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযোগ দায়ের করা হলে নাবালক মুসলিম ছেলেকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে কিশোর আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কিশোরের বিধবা মা আদালতে হাজির হলে তাকে আটক করে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার দায়ে মামলা দায়ের করা হয়। 

সূত্রে জানা যায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও স্থানীয় কিছু সংগঠন ও গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হন।

স্কুল ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসএমডিসি) সভাপতি সুব্রত দাস জানান, স্কুল কর্মকর্তা, এসএমডিসি সদস্য এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের পক্ষেই মত দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও চার শিক্ষার্থীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তবে, অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) নেতা মানিদুল ইসলাম ছাত্র ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচন করে মুসলিম কিশোরদের উপর আরোপিত অভিযোগ ও দাবি খণ্ডন করে জানান, ছেলেগুলো কেবল নিজেদের মধ্যে খাবার ভাগাভাগি করছিল, তখন হিন্দু সহপাঠীরা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়।

মানিদুল ইসলাম এই বহিষ্কারের কঠোর বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না-করার আহ্বান জানান। একই সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসক প্রদীপ টিমুং এবং পুলিশ সুপার নবনীত মহান্ত স্কুলটি পরিদর্শন করেন। টিমুং একটি ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের ঘোষণা দেন এবং স্কুলের টিফিনের বিষয়ে আরও কঠোর নির্দেশিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন। নির্দেশিকায় মাছ ও মাংস নিষিদ্ধ করে শুধু ডিম আনার অনুমতি দেওয়ার কথা বলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ছাত্রছাত্রীদের শুধু নিরামিষ খাবার আনতে নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ