‘হজ ভিলেজ’ নির্মাণে মক্কায় ৪.৪ হেক্টর জমি কিনেছে ইন্দোনেশিয়া
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১০ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ইন্দোনেশীয় মুসল্লিদের আবাসন ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে ‘হজ ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিনিয়োগ সংস্থা দানান্তারা ইন্দোনেশিয়া। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে মক্কার থাকের (Thakher) এলাকায় ৪ দশমিক ৪ হেক্টর জমি কিনেছে সংস্থাটি। সৌদি আরবের স্থানীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান আল-খুমাসিয়াহর (Al-Khomasiah) সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কয়েকটি ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ ও শিল্পায়নমন্ত্রী এবং দানান্তারা ইন্দোনেশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোসান রোসলানি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাকার্তার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক সীমিত মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রকল্পটির প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্পের স্থপতিরা শিগগিরই ইন্দোনেশিয়ায় এসে পূর্ণাঙ্গ নকশা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। এরপর ডিসেম্বর মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অথবা নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা দানান্তারা তাদের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিটি দানান্তারা ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের (ডিআইএম) মাধ্যমে মক্কার থাকের এলাকায় জমিটি অধিগ্রহণ করে। গত ১৮ অক্টোবর জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ অধিগ্রহণের তথ্য জানায়।

তবে হজ ভিলেজ প্রকল্পের প্রস্তুতি শুধু জমি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে গত ১১ আগস্ট একই এলাকায় ১ হাজার ৪৬১টি কক্ষ ও স্যুইটবিশিষ্ট নভোটেল থাকের মক্কা হোটেল অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর সম্পন্ন করে দানান্তারা। ফলে নতুন কেনা জমির পাশাপাশি আগে থেকে চালু থাকা একটি বড় হোটেলও এখন তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। জমি ও হোটেল—দুটি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মক্কায় হজ ও ওমরাহযাত্রীদের জন্য সমন্বিত আবাসন ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪ দশমিক ৪ হেক্টর জমিতে একটি সমন্বিত স্থাপনা গড়ে তোলা হবে। এতে হোটেল ও আবাসন সুবিধার পাশাপাশি খুচরা বিপণিবিতান এবং যাত্রীদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক সেবার ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। এ জন্য সৌদি আরবের স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আল-খুমাসিয়াহর সঙ্গে কাজ করবে দানান্তারা। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতা করেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রতিটি ধাপের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স সংগ্রহ করা হবে। সৌদি আরবের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে দানান্তারা।

প্রকল্পটির মাধ্যমে শুধু ইন্দোনেশীয় হাজিদের আবাসন নিশ্চিত করাই নয়, বরং মক্কায় অবস্থানকালীন তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবাও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। দানান্তারার প্রধান নির্বাহী রোসান রোসলানি জানিয়েছেন, হোটেল ও জমি অধিগ্রহণের সমন্বয়ে সৌদি আরবে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ও পর্যটনসেবা বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের হজ ও ওমরাহযাত্রীদের জন্যও উন্নত আবাসন ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

আইও/