
|
মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার দায় রাষ্ট্রেরও: শায়খ আহমাদুল্লাহ
প্রকাশ:
০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা রোধে দেশে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, দুর্নীতি, অনিয়ম, নিরাপত্তাহীনতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে মেধাবী তরুণদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতির দায় শুধু তরুণদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এক তরুণের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর বাঁধভাঙা উল্লাসের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ওই আনন্দের কারণ তাঁকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়েছিল। তরুণের উচ্ছ্বাস কি উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ, নাকি উন্নত জীবনের হাতছানি এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পথ খুলে যাওয়ার উচ্ছ্বাস—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকায় অনেক তরুণ বিদেশমুখী হচ্ছে। এসব দেশের জনসংখ্যা ও জন্মহারসংক্রান্ত সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দক্ষ কর্মী ও তরুণ জনশক্তির প্রয়োজন মেটাতে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিরোধিতা না করলেও পড়াশোনা শেষে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশের মানুষের অর্থে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠার পর কেবল উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় বিদেশে স্থায়ী হয়ে দেশের মেধা অন্য দেশের উন্নয়নে ব্যয় হওয়া কাম্য নয়। তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামগ্রিক পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা যায়নি। এখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, ঘুষ ও সুপারিশ ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে মেধাবী তরুণদের কাছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তরুণদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সবাই যদি নিরুপদ্রব জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান, তাহলে দেশের পরিবর্তন ঘটাবে কে? তরুণদের সামনে ত্যাগ ও আদর্শের কোনো বড় লক্ষ্য না থাকাকেও তিনি এ প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মেধা পাচার রোধে কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এর মধ্যে রয়েছে—মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করা। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নতি অনেকাংশেই নির্ভর করে তরুণদের মেধা ও দক্ষতার ওপর। সেই মেধা যদি দেশের বাইরে চলে যায় এবং অন্য দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নিজ দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই মেধা পাচার রোধে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিপর্যায়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। |