যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আব্দুল আল-সাইয়েদ
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদ। তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ জয় পান তিনি।

মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’। এখানে কোনো একটি দলের স্থায়ী আধিপত্য নেই। ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে আল-সাইয়েদের জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান আব্দুল আল-সাইয়েদ জনস্বাস্থ্য খাতের সাবেক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেননি। আট বছর আগে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এবার সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় আল-সাইয়েদের প্রধান অঙ্গীকার ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, রাজনীতিতে বাইরের অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচনা। তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থকদের নিয়ে গড়ে তোলা প্রচারণাই তাঁকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচন—উভয় পর্যায়েই প্রতিপক্ষের বিপুল অর্থব্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে।

নির্বাচনের শেষ পর্যায়েও নিজ দলের বিরোধিতার মুখে পড়েন আল-সাইয়েদ। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তাঁর কাছে পরাজিত হওয়া হ্যালি স্টিভেনস নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। তবে এতে দমে যাননি আল-সাইয়েদ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চালিয়ে যান প্রচারণা।

নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও বিদ্রূপ ও আক্রমণ করা হয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাঁকে ‘জঙ্গি’ ও ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব থাকায় তাঁর জনপ্রিয়তায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রচারণায় আল-সাইয়েদ বারবার বলেছেন, মুসলিম সিনেটর হওয়ার জন্য নয়, মিশিগানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আল-সাইয়েদের এই বিজয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোতেও এ ধারার রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাঁর জয় সে বার্তাই দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নাম সিনেট। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে পুরো সিনেট একসঙ্গে পরিবর্তিত হয় না।

আইও/