
|
মহিলারা ভ্রমণকালে নামাজ কীভাবে আদায় করবেন?
প্রকাশ:
০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৬ রাত
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক ইসলামে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। তাই কোনো পরিস্থিতিতেই অকারণে নামাজের ফরজ বিধান পরিত্যাগ করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বাইরে অবস্থানকালে পর্দার অসুবিধা, লোকলজ্জা কিংবা নিরিবিলি জায়গা না পাওয়ার কারণে অনেক নারী দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদার পরিবর্তে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করেন। অথচ এ ধরনের পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান কী, তা জানা জরুরি। নারীদের জন্য ঘরে নামাজ আদায় করাই অধিক উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنّ ‘তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।’ (আবু দাউদ : ৫৬৭) তবে প্রয়োজনের কারণে নারীদের মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতিও রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ ‘তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না।’ (সহিহ বুখারি : ৯০০) সুতরাং কোনো নারী যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন যে, তিনি বাড়ি থেকে অনেক দূরে রয়েছেন এবং বাড়ি ফিরতে ফিরতে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে তাঁর জন্য কাছাকাছি কোনো নিরাপদ স্থানে নামাজ আদায় করা জায়েজ। বরং ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করা তাঁর জন্য জরুরি। এ ক্ষেত্রে মসজিদ, ইবাদতখানা, নামাজের নির্ধারিত কক্ষ কিংবা পর্দার উপযোগী কোনো নিরাপদ স্থান বেছে নিতে পারবেন। এমনকি ওই মসজিদ বা ইবাদতখানায় পুরুষের উপস্থিতি থাকলেও প্রয়োজনে সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে। একইভাবে স্থানটি জনসমাগমপূর্ণ এলাকার পাশে হলেও নামাজ আদায়ে বাধা নেই। তবে নামাজের সময় যথাসম্ভব পর্দা রক্ষা করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতএব, নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নারী নিকটবর্তী মসজিদ বা ইবাদতখানায় নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রয়োজনে নিরিবিলি কোনো কোণ, নিরাপদ স্থান কিংবা পরিষ্কার খোলা জায়গাও বেছে নিতে পারবেন। বোরকা-নিকাব পরিহিত অবস্থায় পরপুরুষের সামনে নামাজ আদায় করলেও তাঁর নামাজ সহিহ হবে। সুতরাং শুধু পরপুরুষের উপস্থিতি কিংবা নারীদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা না থাকার অজুহাতে বসে ইশারায় ফরজ নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়। যতক্ষণ স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদা করার সক্ষমতা রয়েছে, ততক্ষণ সেভাবেই নামাজ আদায় করতে হবে। ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ মুখতাসারুল কুদুরি-তে বলা হয়েছে, «وَإِنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ أَوْمَأَ إِيمَاءً» অর্থাৎ, ‘যদি রুকু ও সিজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে ইশারায় নামাজ আদায় করবে।’ (মুখতাসারুল কুদুরি, কিতাবুস সালাত, বাবু সালাতিল মারিদ) তথ্যসূত্র: মুসলিম বাংলা |