
|
হৃদয়ে দেওবন্দের স্মৃতি, চোখে শাইখুল ইসলামের প্রতীক্ষা
প্রকাশ:
০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি জাবের কাসেমী || সময়টা ১৪৩০-৩১ হিজরি। দারুল উলুম দেওবন্দের মেহমানখানায় অবস্থান করছেন শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম। সকাল থেকেই চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছেন তালিবুল ইলমগণ। কখন হযরত বের হবেন, কখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে মসজিদে রশিদে! আর কখনো যদি সুযোগ হয়, হযরতের পবিত্র সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর! সেদিন আমাদের দারুল হাদিসের তরজমান মাওলানা পারভেজ গুন্টাবী সাহেব এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেন। মেহমানখানার সিঁড়ি থেকে শুরু করে রাস্তার দুই পাশে ছাত্রদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একটি পথ তৈরি করা হলো, যা সরাসরি দারুল উলুমের দারুল হাদিসের দরসগাহ পর্যন্ত বিস্তৃত। হযরত ভেবেছিলেন, তাঁকে হয়তো মসজিদে রশিদ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদের তৈরি করা সেই পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে যখন শেষ প্রান্তে পৌঁছলেন, তখন দেখলেন তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে দারুল উলুমের ঐতিহাসিক দারুল হাদিসের দরসগাহে। দরসগাহে প্রবেশ করতে গিয়ে হযরত কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেন। ছাত্রদের প্রবল আগ্রহ ও পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত এক পাশে বসতে সম্মত হলেন। এরপর অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সঙ্গে উর্দুতে বললেন- "ہم یہاں کیسے بیٹھ سکتے ہیں؟ کیونکہ یہاں تو حضرت شیخ الہند اور حضرت شیخ الاسلام جیسے حضرات بیٹھے ہیں۔ ٹھیک ہے، میں بازو میں بیٹھ کر کچھ بات عرض کر دیتا ہوں۔" অর্থাৎ, ‘আমি এখানে কীভাবে বসতে পারি? এখানে তো শায়খুল হিন্দ ও শায়খুল ইসলামদের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা বসেছেন। আচ্ছা, আমি পাশে বসে কিছু কথা বলি।’ আহ! কী অসাধারণ বিনয়! ইলমের বিশালতা, বিশ্বজোড়া পরিচিতি ও অসামান্য মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও পূর্বসূরি আকাবিরের প্রতি কী গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মসম্মানবোধ! এরপর হযরত হাদিসে মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাতের দরস প্রদান করেন। ছাত্রদের বিশেষ অনুরোধে সিহাহ সিত্তার দরসও দেন এবং ইজাজত প্রদান করেন। আলহামদুলিল্লাহ! সেই সৌভাগ্যবান মুহূর্তে আমার মতো অনেক তালিবুল ইলমেরও হযরতের শিষ্যত্ব ও ইজাজত লাভের সুযোগ হয়। আমাদের মধ্যে ছিলেন মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ, মুফতি হাসান আহমদ, মুফতি মাহমুদ হাসান, মুফতি মামুন আবদুল্লাহ কাসেমীসহ আরও অনেকে। দরস শেষে মসজিদে রশিদে তালাবা, উলামায়ে কেরাম ও দেওবন্দের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হযরত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেদিনের সেই স্মৃতি আজও হৃদয়ের মণিকোঠায় অমলিন হয়ে আছে। একজন বড় আলেমের ইলমি গভীরতা যেমন মানুষকে মুগ্ধ করে, তেমনি তাঁর বিনয়, পূর্বসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তালিবুল ইলমদের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে আরও বেশি আকৃষ্ট করে। আবারও সেই প্রিয় মুখের সান্নিধ্য লাভের অপেক্ষা! আগামী ২২ নভেম্বর শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম ফরিদাবাদ মাদ্রাসার ৭০ সালা দস্তারবন্দী উপলক্ষে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে শুভাগমন করবেন। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে আমার মতো অসংখ্য তালিবুল ইলম, উলামায়ে কেরাম ও ইলমপিপাসু মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রত্যাশা একটাই হযরতের সোহবত, ইলমি আলোচনা, নসিহত, ফয়েজ ও বরকত থেকে কিছুটা হলেও উপকৃত হওয়া। যাঁর ইলমি খেদমত, তাকওয়া, প্রজ্ঞা ও বিনয় বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছে, তাঁর আগমন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য এক আনন্দের সংবাদ। আহলান ওয়া সাহলান, ইয়া শায়খাল ইসলাম! আপনার আগমনে ধন্য হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। আপনার নসিহতে আলোকিত হোক আমাদের জীবন, সমৃদ্ধ হোক আমাদের ইলমি অঙ্গন, সুদৃঢ় হোক উম্মাহর ঐক্য ও দ্বীনি চেতনা। আপনার পদধূলিতে মুখরিত হোক বাংলাদেশের ইলমি ময়দান। লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা এসএইচ/ |